আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তিনটি বড় জনমত জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি), ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি) এবং রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোটের মাঠে বিএনপি জোট এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের সমর্থন এবার তাদের ইতিহাসের সেরা নির্বাচনী ফলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের সঙ্গে আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবকেও নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে জেনারেশন জেডের ভোট এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইএএসডি জরিপ: বিএনপি জোট ২০৮, জামায়াত ৪৬ আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা: এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) সম্প্রতি দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৪১,৫০০ জন ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে জরিপ করেছে। এতে দেখা গেছে: বিএনপি জোট: ২০৮ আসনে জয়ী সম্ভাবনা, জামায়াত জোট: ৪৬ আসনে জয়ী সম্ভাবনা, জাতীয় পার্টি: ৩, অন্যান্য দল: ৪, স্বতন্ত্র প্রার্থী: ১৭, ক্লোজ কনটেস্ট: ২২ আসনে হাড্ডাহাড্ডি।
ইএএসডি প্রধান নির্বাহী শামীম হায়দার তালুকদার জানিয়েছেন, নির্বাচনে সর্বাধিক সমর্থন বিএনপির প্রতি, ভোটারের ৬৬.৩% বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। বিশেষভাবে নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৭১.১%। এছাড়া বিএনপি জোটের প্রতি সর্বাধিক সমর্থন চট্টগ্রাম (৭৬.৮%) এবং সিলেটে (৭৫.৬%) দেখা গেছে।
আইআইএলডি জরিপে বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভোট ভাগ প্রায় সমান: ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি) ৬৩,৬১৫ জন ভোটারের ওপর সারাদেশে জরিপ পরিচালনা করেছে। ফলাফল অনুযায়ী: বিএনপি সমর্থিত জোট: ৪৪.১০%, জামায়াত সমর্থিত জোট: ৪৩.৯০%, জাতীয় পার্টি: ১.৭%, স্বতন্ত্র প্রার্থী: ৩.৮%, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঁহফবপরফবফ: ৬.৫%।
শহরে বেশি ভোট পাবে বিএনপি, গ্রামে জামায়াত। ভোটের মাঠে, জামায়াত সমর্থিত জোট ১০৫টি আসনে নিশ্চিতভাবে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখছে, আর বিএনপি সমর্থিত জোট ১০১টি আসনে। এছাড়া ৭৫টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ভোটাররা এবারের নির্বাচনে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন, চাকরির নিশ্চয়তা এবং প্রার্থীর যোগ্যতার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রয়টার্সের পর্যবেক্ষণ: বিএনপি এগিয়ে, তবে জামায়াত ইতিহাস গড়ার পথে: বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ১৫ বছরের একচেটিয়া রাজনৈতিক প্রভাবের পর বাংলাদেশ এখন একটি নতুন রাজনৈতিক মোড়ে। বিএনপি এগিয়ে থাকলেও ইসলামপন্থি জামায়াত জোট এবার তাদের ইতিহাসের সেরা ফল করতে পারে।
বিএনপি জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা রাখছে। জামায়াত জোট তাদের নতুন জেনারেশন জেড মিত্র দলের মাধ্যমে শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন যদি স্পষ্টভাবে শেষ হয়, তবে ১৭.৫ মিলিয়ন ভোটারের দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। এছাড়া, ভারত ও চীনের ভূমিকাও নতুনভাবে নির্ধারিত হবে।
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: প্রার্থী ও দল নির্বাচনকে কতটা প্রভাবিত করছে: ভোটাররা দলীয় অভিজ্ঞতা ও প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনায় বেশি দিচ্ছেন। ধর্মীয় ও প্রতীকি ইস্যুতে ভোটাররা কম প্রভাবিত হচ্ছেন। দায়িত্বশীল, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের প্রতি মনোযোগ উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনের রায় দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। ভোটারদের আগ্রহ, তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দলীয় প্রস্তুতি মিলিয়ে এবারের ভোট এক নজরে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সানা/আপ্র/৯/২/২০২৬