গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মেনু

জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ

অতীতে ভুল হলে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৫৫ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৪:৩৭ এএম ২০২৬
অতীতে ভুল হলে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি
ছবি

সোমবার সন্ধ্যায় বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তারেক রহমান

অতীতে বিএনপির শাসনামলে অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল-ত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চান। এ লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তিনি।

 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান বলেন, অতীতে জনগণের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনায় কোনো ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকলে এ জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে সমর্থন ও ভোট প্রয়োজন। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই।


তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সমর্থন পেলে আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক। দুর্নীতি দমনে বিএনপি সরকার যতটা কঠোর হওয়া যায়, ইনশাল্লাহ ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে- এটি বিএনপির অঙ্গীকার। তিনি বলেন, বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। ফ্যাসিবাদ আমলে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির তথাকথিত নির্বাচনে জনগণকে পরিবারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দেশবাসীর প্রতি তার আহ্বান- ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য।


বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, মরহুমা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাফল্য যাত্রা অব্যাহত রাখতে আমি আমার দলের নেতাকর্মীদেরকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন থেকে হাতে কলমে প্রস্তুতি নিয়েছি। তিনি বলেন, ২০০১ সালে যখন আপনাদের সমর্থনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছিল আমি তখন সরকারের অংশ হইনি। তবে বিএনপির একজন কর্মী হিসাবে সারাদেশে প্রতিটি জেলা উপজেলা গ্রাম নগর বন্দরে ঘুরেছি। আপনাদের স্থানীয় সমস্যাগুলো সম্ভাবনাগুলো জানা, বোঝার চেষ্টা করেছি। 

 

পরিস্থিতির কারণে বিদেশে থাকতে বাধ্য হলেও হৃদয় মন সত্তা জুড়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জনগণ। আমি তাই বিদেশে অবস্থানকালীন সময়েও দেশের প্রতিটি এলাকায় আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি। বিদেশ থেকে দেশে ফিরেও আমি আবারো এই স্বল্প সময় যতটুকু সম্ভব আপনাদের কাছে ছুটে গিয়েছি। আমি আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। বিএনপির প্রতি আপনাদের আবেগ এবং ভালোবাসা উপলব্ধি করেছি। 


গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত বাংলাদেশ মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ।

 কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত। 

 

তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টর এবং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। বর্তমান প্রজন্মের সামাজিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যৎ প্রজম্যের জন্য একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

 

বিএনপির সব পরিকল্পনা বিশেষ করে দেশের সব তরুণ-তরুণী বেকার জনগোষ্ঠী এবং নারীদের জন্য দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই এবার বিএনপির প্রথম এবং প্রধান অগ্রধিকার। আমি ইশতেহারে উল্লেখিত কয়েকটি বিষয় খুব সংক্ষিপ্তভাবে আজ আবারও দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই। 


তারেক রহমান বলেন, বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক, বিমা, পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার, অঞ্চল ভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমার্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কয়েকটি সেক্টরকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উপায় এবং কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। 

 

এরই অংশ হিসাবে দেশব্যাপী কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা হবে। কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় বিনামূল্যে স্কিলস ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যাতে করে বেকার যুবক কিংবা তরুণ-তরুণীরা দেশে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য প্রস্তুত হয়ে সরাসরি কর্মক্ষেত্রে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন। 

 

প্রতিটি অঞ্চলভিত্তিক স্থানীয়ভাবে বিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় কুটিরশিল্প ও এসএমই খাত বিকশিত করার জন্য সহজ এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। বৈষয়ক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের পণ্য রফতানির লক্ষ্যে বেসরকারি শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সহায়ক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আউটসোর্সিং, ডাটা প্রসেসিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টরসহ আইটি সেক্টরে নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব সেক্টরে প্রতিবছর সরাসরি ২ লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি ও কন্টেইন ক্রিয়েশন এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আরো ৮ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৯ লাখ রয়েছেন স্নাতক ডিগ্রিধারী উচ্চ শিক্ষিত বেকার। এদের মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ তরুণ তরুণী কোন প্রকার শিক্ষা চাকরি ও প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত নয়। এই বিপুল সংখ্যক বেবকারের অধিকাংশই ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী। 

 

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায় বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে বিএনপি শিক্ষিত তরুণ তরুণীদের জন্য ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মনে করি এই বেকার ভাতা হয়তো একজন শিক্ষিত বেকারকে সে উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জনেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। প্রিয় দেশবাসী, দেশের অর্ধেক জনশক্তির বেশি নারীশক্তিকে রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতির মূলধারার বাইরে রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। 


ভাষণে তারেক রহমান বলেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।’ গণতন্ত্রকামী ভাই-বোনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচিত এমপিরা জনগণের দায়িত্ব নেবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তিনি নিজে নেবেন। 

 

তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন পেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির মূল মন্ত্র হবে মহানবীর মহান আদর্শ- ন্যায়পরায়ণতা। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ধানের শীষের বিজয় কামনা করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন।

 

ডিসি/আপ্র/০৯/০২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন সুজনের
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন সুজনের

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে একটি সাধারণ দুর্বলতা হলো কর্মসূচির আর্থিক প্রাক্কলনের অভাব। ফলে...

তার আচরণে কেউ আঘাত পেলে ‘দুঃখ প্রকাশ’ প্রেস সচিবের
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তার আচরণে কেউ আঘাত পেলে ‘দুঃখ প্রকাশ’ প্রেস সচিবের

দায়িত্ব পালনের সময় তার কোনো আচরণে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা...

বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের সম্ভাবনা ইতিহাসের রেকর্ড স্পর্শে
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের সম্ভাবনা ইতিহাসের রেকর্ড স্পর্শে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিন সংস্থার জরিপ

অবশেষে সরিয়ে দেওয়া হলো ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক এজাজকে
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অবশেষে সরিয়ে দেওয়া হলো ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক এজাজকে

 দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তৎপরতার মধ্যেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গ্যাস সংকটের সুযোগে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে, এর মধ্যেই সরকার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে। এটা কতটা যুক্তিসঙ্গত মনে করেন?

মোট ভোট: ২ | শেষ আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে