বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
কর্মসংস্থানের রোডম্যাপ: বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও প্রশিক্ষণ: ঢাকা-৮ আসনের পীরজঙ্গী মাজার রোডে এক পথসভায় তারেক রহমান বলেন, তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সংকট শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় বিএনপি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে মিল-কারখানা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় ভোকেশনাল, টেকনোলজিক্যাল ও আইটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তুলে তরুণ সমাজকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে তৈরি করা হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
প্রবাসে যেতে আগ্রহীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ: বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠের জনসভায় তারেক রহমান জানান, কাজের সন্ধানে বিদেশে যেতে আগ্রহীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে। এতে কেউ যেন বিদেশ যাওয়ার জন্য বাপ-দাদার জমি বিক্রি করতে বাধ্য না হয়-সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে এবং দেশে ফিরে সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে চালু করা হবে প্রবাসী কার্ড।
স্বাস্থ্য, নারী ও কৃষকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ: বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তারেক রহমান। নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ-ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুর জন্য সম্মানজনক ভাতা চালুর ঘোষণা দেন।
‘দুর্নীতি থেকে দেশ বের করার অভিজ্ঞতা বিএনপির আছে’: ঢাকা-৯ আসনের বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের সময় দুর্নীতির তকমা থেকে দেশকে মুক্ত করা হয়েছিল। খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শতভাগ স্বাধীন রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নারীদের শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তব অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে।
ভোটাধিকার রক্ষায় সজাগ থাকার আহ্বান: ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠের জনসভায় তারেক রহমান ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও নকল ব্যালট সিল তৈরির অভিযোগ তুলে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কেউ বিকাশ নম্বর বা এনআইডি নম্বর চাইলে সেটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখতে হবে। এসব অপচেষ্টা রুখে না দিলে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার আবার হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ধানের শীষ স্বাধীনতা ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক: মতিঝিলের পীরজঙ্গী মাজার রোডে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশ পুনর্গঠনের যাত্রা শুরু করতে। এ সময় তিনি ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস, ঢাকা-১০ আসনের শেখ রবিউল আলম রবি এবং ঢাকা-৯ আসনের হাবিবুর রশীদ হাবিবের পক্ষে ভোট চান।
ঢাকার বিভিন্ন আসনে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি: বিএনপি সরকার গঠন করলে ঢাকা-৮ আসনে খেলার মাঠ নির্মাণ, কবরস্থানের জন্য জায়গা বরাদ্দ ও জলাবদ্ধতা নিরসন, ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১০ আসনে রাস্তা-ঘাট, হাসপাতাল সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
‘পরিশ্রম করি, ঐক্যবদ্ধ থাকি, দেশ গড়ে তুলি’: দিনব্যাপী জনসভাগুলোর শেষ দিকে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ নয়, বরং সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিয়েই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশ গঠনের আহ্বান জানান।
সানা/আপ্র/৯/২/২০২৬