মাহাবুব রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লাভলু মৃধাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রাধানগর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বহিষ্কারের ঘোষণা দেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য ও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ লাভলু মৃধাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। দলীয় নির্দেশনাও উপেক্ষা করেন। পরে ১৬ অক্টোবর দলের দপ্তর সম্পাদকের মাধ্যমে তাঁকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লাভলু মৃধার বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দরিদ্র মুদি বিক্রেতা সুবাস চন্দ্র রায়কে একটি মামলা থেকে মুক্ত করার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা নেন লাভলু মৃধা। পরে সুবাস চন্দ্র রায় মামলা থেকে খালাস পেলেও পুরো টাকা ফেরত না দিয়ে ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া দিল্লাপুরের শের আলী নামের এক ব্যক্তির জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধে হস্তক্ষেপ করে ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে ক্ষতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একই এলাকার কুশিয়ালপাড়ার মৃত শামসুল হকের ছেলের পারিবারিক বিরোধের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগও তোলা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরো অভিযোগ করা হয়, এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও টাকা সংগ্রহ করতেন লাভলু মৃধা। পাশাপাশি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং তাঁদের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা বলেন, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সুযোগ বুঝে লাভলু মৃধা দলে অনুপ্রবেশ করেন এবং ব্যক্তিস্বার্থে দলের নাম ব্যবহার করতে থাকেন। বিএনপি জনগণের দল। কোনো ব্যক্তির অপকর্ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।
সভাপতি নুরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন জানান, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয় বিবেচনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে লাভলু মৃধার সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সানা/আপ্র/৮/১১/২০২৬