গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

নিজের টাকায় অসহায় মেয়েদের বিয়ে দেন রুহুল আমিন, এবার ১১৩তম

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৪ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৪৮ এএম ২০২৬
নিজের টাকায় অসহায় মেয়েদের বিয়ে দেন রুহুল আমিন, এবার ১১৩তম
ছবি

শুক্রবার নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে আফসানা মিমি ও কাউছার মন্ডলের বিয়েতে ব্যবসায়ী রুহুল আমিন (মাঝে)। -ছবি সংগৃহীত

অভাবের কারণে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে পারছিলেন না ভ্যানচালক আফছার আলী। সংসার চলে গ্রামের রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীর মাধ্যমে খোঁজ পান নাটোরের বড়াইগ্রামের ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের। তাঁর কাছে সহযোগিতা চাইতেই আশ্বাস পান আফছার। এরপর নিজের উদ্যোগে বিয়ের সব আয়োজন করেন ওই ব্যবসায়ী। বর-কনের পোশাক, গয়না, উপহারসামগ্রী, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে অতিথিদের খাবার - সব খরচই বহন করেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে আফছার আলীর মেয়ে আফসানা মিমির (২০) সঙ্গে নাটোর সদর উপজেলার সবুজ মণ্ডলের ছেলে কাউছার মণ্ডলের (২২) বিয়ে হয়। আয়োজনটি আর দশটি বিয়ের মতো হলেও এর পেছনের মানুষটি ছিলেন বর-কনের পরিবারের বাইরের একজন। তাঁদের সঙ্গে আগে কোনো পরিচয়ও ছিল না রুহুল আমিনের। অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে নিজের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করাই তাঁর দীর্ঘদিনের শখ। এ নিয়ে গত ২৪ বছরে ১১৩ জন মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন তিনি।

‘আমি ১১৩ জন মেয়ের বাবা’
রুহুল আমিন বলেন, “এই পৃথিবীতে অনেকের অনেক রকম শখ রয়েছে। আমি আমার উপার্জিত অর্থ দিয়ে সমাজের হতদরিদ্র মেয়েদের বিয়ে সম্পন্ন করে দিতে চাই। এটাই আমার শখ। এর বিনিময়ে এ জীবনে কিছুই চাই না। সৃষ্টিকর্তা পরকালে আমাকে নিশ্চয় প্রতিদান দেবেন। আমি এ পর্যন্ত ১১৩ জন মেয়েকে বিয়ে দিলোাম। আমি মনে করি আমি ১১৩ জন মেয়ের বাবা। ওরা আমার মেয়ে-জামাই। আমার নিজের একটি মেয়ে রয়েছে।”

পেশায় ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী রুহুল আমিন প্রতিটি বিয়ের তারিখ ও স্থান লিখে রাখেন। অনেক বিয়ের ছবি ও ভিডিওও সংরক্ষণ করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে এক মেয়ের বাবা হলেও অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়ের আয়োজন করতে গিয়ে তাঁদের নিজের সন্তানের মতোই মনে করেন।

কনে আফসানা মিমি জানান, অর্থের অভাবে বাবা তাঁর বিয়ের উদ্যোগ নিতে সাহস পাচ্ছিলেন না। পরে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাবা। এরপর রুহুল আমিন নিজের মেয়ের মতো করেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেন। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আফসানা বলেন, সমাজে এ ধরনের মানুষ থাকতে পারেন, তা তিনি ভাবতেও পারেননি।

বর কাউছার মণ্ডল বলেন, “আমি সৌভাগ্যবান এমন একটি বিয়ের বর হতে পেরে। রুহুল আমিন আমার বিয়ের উকিল বাবা হয়েছেন। আমার স্ত্রীকে আমার হাতে সঁপে দিয়েছেন। আমাদের জন্য দোয়া করেছেন।”

১১২তম বিয়ে রাজশাহীতে, ১০৯তম নড়াইলে
রুহুল আমিনের উদ্যোগে সর্বশেষ বিয়ের আগে গত ২১ আগস্ট রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বালাদিয়া গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। সেটি ছিল তাঁর আয়োজন করা ১১২তম বিয়ে। সুমাইয়া জানান, ১০ বছর আগে তাঁর বাবা মারা যান। এরপর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে তিনি বেড়ে ওঠেন। তাঁর বিয়ে নিয়ে মা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাঁর উদ্যোগে ধুমধাম করে বিয়ে হয়।

এর আগে গত ২১ জুন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতি গ্রামের জালাল মোল্লার মেয়ে রাবেয়া খাতুনের বিয়ে হয়। সেটি ছিল রুহুল আমিনের আয়োজন করা ১০৯তম বিয়ে। রাবেয়া বলেন, “আট বছর আগে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে আমার বাবা মারা যান। আমার বিয়ে নিয়ে পরিবার অনেক দুশ্চিন্তায় ছিল। অবশেষে রুহুল আমিন ভাইয়ের সহযোগিতায় জাঁকজমকপূর্ণভাবেই আমার বিয়ে হয়। আমার পুরো পরিবার তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। এখনো তিনি আমাদের খোঁজখবর নেন।”

স্থানীয়দের প্রশংসা
রুহুল আমিনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম বলেন, রুহুল আমিন ওয়ালিয়া বাজারের একজন ব্যবসায়ী। তিনি মাঝেমধ্যে অসহায় মেয়েদের বিয়েতে সহযোগিতা করেন। নিজে উপস্থিত থেকে নিজের মেয়ের মতো করে বিয়ে দেন। পুরো খরচ বহন করার পাশাপাশি কাবিনে সাক্ষীও হন। তাঁর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ।

বড়াইগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, স্থানীয় লোকজনের কাছে রুহুল আমিনের উদ্যোগে ১১২তম মেয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা শুনেছেন তিনি। অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে এ ধরনের সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজের অন্য বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।

অর্থাভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে না পারা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রুহুল আমিন যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা তাঁর কাছে নিছক দান নয়, বরং ব্যক্তিগত আনন্দের উৎস। নিজের উপার্জনের একটি অংশ দিয়ে অসহায় পরিবারের আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করাকেই জীবনের শখ হিসেবে নিয়েছেন তিনি।
সানা/আপ্র/১০/১০/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
১০ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল ও সনদ অর্জনের পেছনে ছুটলেই চলবে না; বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে...

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় ছাড়পত্রহীন চার রিসোর্ট উচ্ছেদে প্রস্তুতি
১০ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় ছাড়পত্রহীন চার রিসোর্ট উচ্ছেদে প্রস্তুতি

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার সাতক্ষীরার উপকূলীয় পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় সরকারি আইন ও বিধিবি...

‘বুকের ভেতর আগলে রেখেছিলাম’, মেয়ের লাশ দেখে মায়ের আহাজারি
১০ অক্টোবর ২০২৬

‘বুকের ভেতর আগলে রেখেছিলাম’, মেয়ের লাশ দেখে মায়ের আহাজারি

‘আমি গরিব হলে কী হবে, তোকে তো সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছি। কোনো দিন ফুলের টোকাও লাগতে দিইনি। বুকের ভেতর...

ধানক্ষেতে স্কুলছাত্রী হত্যার তদন্তে নতুন তথ্য, মোবাইল উদ্ধার
১০ অক্টোবর ২০২৬

ধানক্ষেতে স্কুলছাত্রী হত্যার তদন্তে নতুন তথ্য, মোবাইল উদ্ধার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 12 ঘন্টা আগে