মোঃ আকরাম হোসেন: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ৯০ মিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন আধুনিক সেতু। তবে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। বরং নদী পারাপারে এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের। সরকারের কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের এমন দীর্ঘসূত্রিতা ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় এলজিইডির অধীনে ২০২০-২১ অর্থবছরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় প্রায় ছয় বছর ধরে সেতুটি কার্যত মানুষের কোনো কাজে আসছে না। নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কোটি টাকার অবকাঠামোটি তাই স্থানীয়দের কাছে উন্নয়নের বদলে দীর্ঘ অপেক্ষা ও দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর চরম ধীরগতি ও খামখেয়ালিপনার কারণেই সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হচ্ছে না। মাঝেমধ্যেই কাজ বন্ধ রাখা এবং কাজ শেষ করতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ও সেতু দ্রুত চালু হলে মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হবে।
‘মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া’ আঞ্চলিক সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে এটি ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু সংযোগ সড়কের অসম্পূর্ণ কাজের কারণে সেই সম্ভাবনাও বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও বর্ষাকে কাজ বিলম্বের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমি সংক্রান্ত সব আইনি জটিলতা ইতিমধ্যে নিরসন করা হয়েছে।
বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে জনগণের যাতায়াত স্বাভাবিক করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের এমন দীর্ঘসূত্রিতা ও মানুষের মরণঝুঁকির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন কামারপাড়াবাসী।
সানা/আপ্র/৩/১০/২০২৬