শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ১৫ ডিলারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান জানান, মামলার ২০ আসামির মধ্যে ১৬ জন মঙ্গলবার আদালতে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির শুনানি শেষে একজনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে বিকালে তাদের শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে যাওয়া সার ডিলাররা হলেন- মো. ফরহাদ আলী, মাজাহারুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, সুফিয়া বেগম, মরিয়ম আক্তার মুন্নী, তাপস নন্দী, সিরাজুল হক, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. বাদশা মিয়া ও জাকির হোসেন রতন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শেরপুর শহরের নিউ মার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করে। এ সময় ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্ট্রার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে সরকারি বরাদ্দের সার বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।
যাচাইয়ে দেখা যায়, অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের চার হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সার কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। এসব সারের মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৮২১ টন ডিএপি সারের মূল্য প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ১৩৪ টন টিএসপির মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সারের মূল্য প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রির ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এতে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হয়।
এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা কিছুদিন আগে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন। ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তারা শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অপর আসামিরা উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আব্দুল মান্নান বলেন, আসামিদের মধ্যে ১৫ জনের উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। একজনের জামিনের সময় থাকায় তাকে আদালত ছাড় দিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২২/৯/২০২৬