কক্সবাজারের টেকনাফে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারীদের প্রায় ২০টি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। এ সময় পাচারের উদ্দেশে অপহরণ করে আটকে রাখা ১৬ বছরের এক কিশোরকে উদ্ধার এবং দুই মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টেকনাফের রাজারছড়া ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় পুলিশ ও টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান চালান। এর আগে শনিবার রাতে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরকে উদ্ধার ও দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়ন থেকে শাহরিয়া নোমান নাঈম নামের ১৬ বছরের এক কিশোরকে পাচারের উদ্দেশে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে টেকনাফের রাজারছড়া এলাকায় নিয়ে একটি মানবপাচারকারীর আস্তানায় আটকে রাখা হয়।
খবর পেয়ে উপপরিদর্শক সৈকত মজুমদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাজারছড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তৌহিদুল আলম, ২২, ও আবু ছাদেক, ২৫, নামে দুই মানবপাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া কিশোরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজারছড়া ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচারকারীদের বেশ কয়েকটি আস্তানার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিকালে পুলিশ ও টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মানবপাচারকারীদের প্রায় ২০টি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আবারো মানবপাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে। এর অংশ হিসেবে যৌথ অভিযানে দুই দালালকে আটক করা হয়েছে এবং অপহৃত এক কিশোরকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান আরো জোরদার করা হবে। মানবপাচারকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সানা/আপ্র/১৪/৯/২০২৬