পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে ১৫ শতাংশ হারে ঘুষ দাবি ও তা ক্যালকুলেটরে হিসাব করে নির্ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পিআইও তাঁর অফিসকক্ষে ফাইলপত্র নিয়ে বসে আছেন। সামনে কয়েকজন ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি উপস্থিত। তবে ভিডিওতে তাদের মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।
ভিডিওর শুরুতেই এক ধরনের হিসাব-নিকাশের দৃশ্য ধরা পড়ে, যেখানে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকে যেন “হিসাবের খাতায় ঘুরে বেড়ানো অঙ্ক” বানিয়ে ফেলা হয়েছে। কথাবার্তার এক পর্যায়ে পিআইও বলেন, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গম বা অর্থের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হবে। এরপর ক্যালকুলেটর চেপে তিনি অঙ্ক কষে জানান, মোট টাকার ১৫ শতাংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক দাঁড়ায়।
সামনে থাকা একজন তখন অনুরোধ করেন, কিছুটা কমানোর জন্য। তাঁর ভাষায়, “এত টাকা স্যার! কাজেও তো তেমন লাভ হয়নি।” জবাবে পিআইও মন্তব্য করেন, মেম্বারদের লাভ-লোকসান সাধারণত এই ধরনের প্রকল্পে দেখা যায় না।
ভিডিওর আরেক অংশে দেখা যায়, একজন জানান তাঁর টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। আবারো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে পিআইও হিসাব করেন এবং জানান, এর ১৫ শতাংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক দাঁড়ায়। উপস্থিত ব্যক্তি তখন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন হলেও এ ধরনের অর্থ দাবি অযৌক্তিক হয়ে পড়ে।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন পরিষদে ছিলেন না এবং কাজ শতভাগ সম্পন্ন করেছেন। তবে পিআইও বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে নিজের অবস্থান বজায় রাখেন।
ভিডিওজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে ঘুষের অঙ্ক নির্ধারণের দৃশ্য, যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিষয়টিকে “হিসাবের মাধ্যমে দুর্নীতি” বলে কটাক্ষ করছেন।
এ বিষয়ে এক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা ৮ থেকে ১০ জন ওই দিন পিআইও অফিসে ছিলেন। ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছে তা তারা জানেন না। তাঁর দাবি, কাজ শেষ হলেও বিল পেতে দেরি হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন হারে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় মুঠোফোনে বলেন, প্রকল্পের ভ্যাট, আয়কর, মিস্ত্রি খরচসহ নানা খরচ হিসাব করেই তারা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি দাবি করেন, অনেক সময় কাজ না করেও অনেকে বিলের জন্য অফিসে আসেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তিনি জানান এবং বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/২৩/৬/২০২৬