আগামী ১২ আগস্ট বিশ্ববাসী বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেখা যাবে সূর্যগ্রহণ এবং ‘পারসিয়েডস’ উল্কাবৃষ্টির চরম মুহূর্ত।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, দুটি ঘটনা একই সময়ে ঘটবে না। দিনের বেলা সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে, আর রাত নামার পর দেখা যাবে পারসিয়েডস উল্কাবৃষ্টির সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপ।
যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে এটি আংশিক সূর্যগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে, যেখানে চাঁদ সূর্যের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ ঢেকে ফেলবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ১৯৯৯ সালের পর ওই অঞ্চলে এটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সবচেয়ে কাছাকাছি দৃশ্য। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অঞ্চল থেকে এটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে।
তথ্যমতে, ১২ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটের দিকে চাঁদ সূর্যের সামনে আসতে শুরু করবে এবং সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটের দিকে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, খালি চোখে সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানো বিপজ্জনক। নিরাপদ সৌর পর্যবেক্ষণ চশমা ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। বিকল্প হিসেবে চালনি বা ঝাঁঝরির মাধ্যমে সূর্যের প্রতিচ্ছবি দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে পারসিয়েডস উল্কাবৃষ্টি ১৭ জুলাই থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে। তবে ১২ ও ১৩ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতেই এটি সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা পাবে। মধ্যরাত থেকে ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সময়কে পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ধরা হচ্ছে।
এ বছর উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য আকাশ তুলনামূলক অনুকূল থাকবে। কারণ এর চূড়ান্ত সময়ে অমাবস্যা থাকায় চাঁদের আলো থাকবে না, ফলে রাতের আকাশ থাকবে বেশি অন্ধকার ও পরিষ্কার।
পারসিয়েডস উল্কাবৃষ্টি সৃষ্টি হয় **১০৯পি/সুইফট-টাটল** ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে। পৃথিবী যখন ওই ধূলিকণা ও শিলাখণ্ডসমৃদ্ধ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন সেগুলো বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে ওঠে এবং আকাশে ‘তারা খসে পড়ার’ মতো দৃশ্য তৈরি করে।
উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য দূরবীন বা টেলিস্কোপের প্রয়োজন হয় না। মহাকাশপ্রেমীদের শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে কোনো অন্ধকার ও খোলা স্থানে অবস্থান করে কিছু সময় চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং আকাশের উত্তর-পূর্ব দিগন্তের দিকে নজর রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
একই দিনে সূর্যগ্রহণ ও পারসিয়েডস উল্কাবৃষ্টির মতো দুটি আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা একসঙ্গে দেখা যাওয়ার সুযোগ খুবই বিরল বলে মনে করছেন তারা। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
সানা/ডিসি/আপ্র/২/৮/২০২৬