গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাটে ইলিশ কেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:২৬ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:১১ এএম ২০২৬
বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাটে ইলিশ কেন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে কমছে ইলিশের উৎপাদন। একই পরিস্থিতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। অথচ সেই ইলিশই এখন বিপুল সংখ্যায় ধরা পড়ছে ভারতের গুজরাটের নর্মদা নদীতে। পরিবেশের পরিবর্তন ও অনুকূল বর্ষার কারণে নর্মদার মোহনা ইলিশের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৎস্যবিজ্ঞানীদের মতে, ইলিশ মূলত পরিযায়ী মাছ। জীবনের বেশির ভাগ সময় সাগরে কাটালেও প্রজননের সময় এটি মিঠাপানির নদীর দিকে চলে আসে। বর্ষায় নদীর পুষ্টিসমৃদ্ধ পানি সাগরে মেশে। নর্মদা নদীর নিম্ন অববাহিকায় ভরুচের কাছে মিঠা ও লবণাক্ত পানির যে মিশ্রণ তৈরি হয়, তা ইলিশের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

কামধেনু বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ফিশারিজ সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক আর বি ভালা ও এ এম পারমারের মতে, এ ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তন ইলিশের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

বাংলাদেশে কমেছে ইলিশ উৎপাদন

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। এ ছাড়া পৃথিবীর মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দাবি, বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২-০৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন। এরপর গড়ে প্রতিবছরই উৎপাদন বাড়ছিল। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে সেই প্রবৃদ্ধিতে হোঁচট খেতে শুরু করে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়। পরের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরো কমে উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক হিসাব পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন পাঁচ লাখ টনেরও কম হয়েছে।

কেন বদলাচ্ছে ইলিশের প্রজননক্ষেত্র

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের গঙ্গা-হুগলি-পদ্মা নদীব্যবস্থা একসময় ইলিশের অন্যতম প্রধান প্রজননক্ষেত্র ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই নদীব্যবস্থার পরিবেশে নানা পরিবর্তন এসেছে।

ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের প্রভাব পড়েছে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে। নদীতে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজ। কোথাও নদীর গভীরতাও কমেছে। পাশাপাশি দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইলিশের চলাচল এবং প্রজননক্ষেত্রেও পড়ছে।

ফলে ঐতিহ্যবাহী প্রজননক্ষেত্র থেকে ইলিশের গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গুজরাটে ইলিশ উৎপাদনে রেকর্ড

গুজরাটে ইলিশের উৎপাদন গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রাজ্যের মৎস্যশিল্প কমিশনার বিজয় খারাদি জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে গুজরাটে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ১৯৮ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন। পরের বছর উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৮ হাজার ২০৯ দশমিক ৪৮ মেট্রিক টনে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৫৮৭ দশমিক ৭২ মেট্রিক টন।

নর্মদায় বাড়ছে অভ্যন্তরীণ জলসীমার ইলিশ

গুজরাটে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে অভ্যন্তরীণ জলসীমা থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ জলসীমায় ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল মাত্র ১২৩ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৪৫ দশমিক ৯৯ মেট্রিক টনে।

ভরুচ জেলায় ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৭ হাজার ৪১০ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সামুদ্রিক ইলিশ ২ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৭৬ মেট্রিক টন এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৪৬০ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন। রাজ্যের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৫১ শতাংশই এসেছে ভরুচ থেকে।

ইলিশের মৌসুমে আয় বাড়ছে জেলেদের

ইলিশের বাড়তি উৎপাদন স্থানীয় জেলেদের জন্যও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। নর্মদার তীরবর্তী এলাকায় ২৫ হাজারের বেশি জেলে এই মাছের ওপর নির্ভরশীল।

ভাদভুত গ্রামের জেলে ধবল মাচ্ছি বলেন, বর্ষার চার মাসের ইলিশ মৌসুম তাদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়। হানসোট, দাহেজ ও ভাদভুত এলাকায় এবার ভালো ইলিশ ধরা পড়ছে।

ভরুচের জেলে রমেশ মাচ্ছি বলেন, নর্মদায় এত বেশি ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা তারা আগে দেখেননি। স্থানীয় জেলেদের জন্য বাড়তি এই আয় পরিবারগুলোর আর্থিক স্বস্তি এনেছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশেও আসছে গুজরাটের ইলিশ

গুজরাটের স্থানীয় বাজারে ইলিশের চাহিদা তুলনামূলক কম। এ কারণে উৎপাদিত ইলিশের একটি বড় অংশ পাঠানো হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে। গুজরাটের ইলিশ এখন বাংলাদেশেও আসছে।

ব্যবসায়ীদের হিসাবে, চলতি মৌসুমে ভরুচ জেলা থেকে প্রায় ২৫০ টন ইলিশ কলকাতা ও হাওড়ার বাজারে পাঠানো হয়েছে। কলকাতার বাজারে চাহিদা থাকায় গুজরাটের জেলেরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

শুধু মাছ নয়, বদলাচ্ছে নদীর পরিবেশও

নর্মদায় ইলিশের বাড়তি উপস্থিতি শুধু মৎস্য আহরণের বিষয় নয়। এটি নদীর পরিবেশ এবং ইলিশের পরিযায়ী আচরণেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নদীর পানির প্রবাহ, লবণাক্ততা, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইলিশের চলাচলে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে, তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

এসি/আপ্র/২০/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

মস্কোয় ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা, ছড়িয়ে পড়েছে আগুন
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মস্কোয় ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা, ছড়িয়ে পড়েছে আগুন

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলে নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে অন্তত দুজন নি...

করপোরেট চাকরি ছেড়ে ফালুদার দোকান, বছরে আয় ১১ কোটি
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

করপোরেট চাকরি ছেড়ে ফালুদার দোকান, বছরে আয় ১১ কোটি

স্বপ্ন পূরণের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ভারতের উদ্যোক্তা প্রদীপ কান্নান যেন সেই কথাটিই প্রমাণ করেছেন।...

গ্রিন কার্ড পেতে নতুন নিয়ম জানালো ট্রাম্প প্রশাসন
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রিন কার্ড পেতে নতুন নিয়ম জানালো ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেতে যাওয়া অভিবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ন...

আদালতে চিকিৎসক, রোগী দেখলেন গাড়িচালক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদালতে চিকিৎসক, রোগী দেখলেন গাড়িচালক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের গাড়িচালকের বিরুদ্ধে রোগী দেখা ও প্রেসক্রিপশন দে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই