বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন লামিন ইয়ামালরা। স্পেনের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্তটি হয়ে থাকবে ফুটবল ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায়। তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের শেষ বাঁশির পর যে দৃশ্যটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে, সেটি কোনো গোল কিংবা ট্রফি জয়ের মুহূর্ত নয়; বরং তিন বছরের ছোট্ট এক শিশুর ভালোবাসার ছোঁয়া।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বড় ভাই লামিন ইয়ামালকে জড়িয়ে ধরতে গ্যালারি থেকে দৌড়ে আসা ছোট্ট কেইনের সেই দৃশ্য এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আবেগঘন ছবি হয়ে উঠেছে।
অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। পদক গলায় ইয়ামাল যখন সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ছোট ভাই কেইন ছুটে আসে তার কাছে। মুহূর্তেই তাকে কোলে তুলে নেন ইয়ামাল, গালে চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরেন। ভাইয়ের প্রতি বড় ভাইয়ের সেই ভালোবাসার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
কেইনের বয়স মাত্র তিন বছর। ফুটবলের কৌশল, বিশ্বকাপের গুরুত্ব কিংবা ইতিহাসের মাহাত্ম্য বোঝার বয়স এখনো হয়নি তার। কিন্তু স্পেনের প্রতিটি জয় যেন তার নিজের উৎসব। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে গ্যালারিতে তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি নজর কেড়েছে সবার।
কখনো দুই হাত নেড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে, কখনো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দে লাফিয়েছে, আবার কখনো খেলোয়াড়দের পরিবারের সঙ্গে উদযাপনে মেতেছে। টেলিভিশন ক্যামেরায় বারবার ধরা পড়া ছোট্ট এই মুখ ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপের এক অপ্রত্যাশিত আকর্ষণ।
ফাইনালের পর ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেইন বিশ্বকাপের গোলপোস্টের জালের একটি ছোট অংশ স্মারক হিসেবে হাতে নিয়ে ছুটছে। সামনে ইয়ামালকে দেখেই সে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। সেই সরল ভালোবাসার দৃশ্য ছুঁয়ে গেছে বিশ্বের কোটি মানুষের হৃদয়।
ইয়ামালও বিভিন্ন সময়ে ছোট ভাইয়ের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। বিশ্বকাপের বাইরেও তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে কেইনের উপস্থিতি দেখা গেছে। বার্সেলোনার ম্যাচ, পারিবারিক আয়োজন কিংবা ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ইয়ামালের পাশে ছিল এই ছোট্ট ভাই।
ইয়ামালের মা শেইলা এবানা ও বাবা মুনির নাসরাউইয়ের বিচ্ছেদের পর শেইলার নতুন সংসারে জন্ম নেয় কেইন। ইয়ামালের বাবার দিক থেকেও আরেক সৎবোন রয়েছে, যার নাম বারা। তবে জনসম্মুখে ইয়ামাল ও কেইনের সম্পর্কই বেশি আলোচিত হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের আটটি ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা গেছে কেইনকে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই সে হয়ে উঠেছিল স্পেন সমর্থকদের পরিচিত মুখ।
অন্যদিকে মাঠেও নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন ইয়ামাল। পুরো আসরে একটি গোল করলেও স্পেনের আক্রমণভাগে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা ও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ক্ষমতায় বারবার আলো ছড়িয়েছেন তিনি। ফাইনালেও তার কয়েকটি প্রচেষ্টা রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছেন ইয়ামাল। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের রাতের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী ছবি হয়ে থাকবে কোনো তারকার ট্রফি উঁচিয়ে ধরা নয়, বরং বড় ভাইয়ের কোলে উঠে হাসতে থাকা তিন বছরের এক শিশুর নির্মল আনন্দ।
স্পেন পেয়েছে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি, ইয়ামাল পেয়েছেন নতুন ইতিহাসের স্বীকৃতি। আর ছোট্ট কেইন জিতে নিয়েছে কোটি মানুষের ভালোবাসা।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২০/৭/২০২৬