মূল ম্যাচে শেষ ওভারে কাগিসো রাবাদার দুই নো, এক ওয়াইড বল। নুর আহমেদের ছক্কা। তারপরও জয়ের জন্য ১৩ রান নিতে পারলো না আফগানিস্তান। চতুর্থ বলে রানআউট। দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ উইকেটে ১৮৭ রানের জবাবে সমান রান করেই ২ বল বাকি থাকতে অলআউট হলো আফগানরা।
ম্যাচ হলো রুদ্ধশ্বাস এক টাই। এনগিদির করা সুপার ওভারে আজমতউল্লাহ দুই চার আর এক ছক্কায় ১৭ রান এনে দেন আফগানিস্তানকে। ১৮ রানের লক্ষ্য। ফজলহক ফারুকির ওভারে ছক্কা মেরে আউট হয়ে যান ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। চতুর্থ বলে ত্রিস্তান স্টাবস চার হাঁকান। পঞ্চম বলে ডট, ষষ্ঠ বলে ছক্কা ব্রেভিসের।
দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১ উইকেটে ১৭, আবার টাই। আবার সুপার ওভার। দ্বিতীয় সুপার ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে স্টাবস একটি আর মিলার হাঁকান দুই ছক্কা। সবমিলিয়ে ২৩।
কেশভ মহারাজের ওভারে জোড়া ছক্কা হাঁকালেও ২ উইকেটে ১৯ রান তুলে আফগানিস্তান। ৪ রান পেছনে থেকে হার মানে। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার টানা দ্বিতীয় জয়, টানা দ্বিতীয় হার আফগানিস্তানের। ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা করেছিল আফগানিস্তান।
ইব্রাহিম জাদরানকে নিয়ে তিনি গড়েন ২৬ বলে ৫১ রানের জুটি। এরপর ১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে আফগানিস্তান। জাদরান ১০ বলে ১২, গুলবাদিন নাইব আর সেদিকুল্লাহ অতল ফেরেন রানের খাতা না খুলেই।
তবে দারুণ খেলে দলকে লড়াইয়ে রাখেন গুরবাজ। সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও ছিল তার। তবে ৪২ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৭ ছক্কায় গড়া গুরবাজের ৮৪ রানের ইনিংসটি থামান কেশভ মহারাজ। সুবিধা করতে পারেননি দারউইশ রসুলি (১৮ বলে ১৫) আর মোহাম্মদ নবি (৬ বলে ৫)। ১৩৯ রানে ৬ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। সেখান থেকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই আর রশিদ খান আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
১৭ বলে ২২ করে ওমরজাই আর ১২ বলে ২০ করে রশিদ আউট হলে লড়াইয়ে ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষদিকে নুর আহমেদের দুই ছক্কায় রুদ্ধশ্বাস এক টাই পায় আফগানিস্তান। এর আগে রায়ান রিকেলটন আর কুইন্টন ডি ককের জোড়া ফিফটিতে ৬ উইকেটে ১৮৭ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি দাঁড় করিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আহমেদাবাদে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
অধিনায়ক এইডেন মার্করামকে (৮ বলে ৫) তুলে নেন ফজলহক ফারুকি। তবে শুরুর ধাক্কা সামলে উঠেন রায়ান রিকেলটন আর কুইন্টন ডি কক। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৪৩ রান তোলে প্রোটিয়ারা। এরপর হাত খোলেন এই দুই ব্যাটার।
৬১ বলে ১১৪ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন রিকেলটন-ডি কক। ৪১ বলে ৫ চার আর ৩ ছক্কায় ৫৯ রান করে রশিদ খানের বলে ডি কক সাজঘরে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। ওই ওভারেই রশিদ ফেরান ২৩ বলে ফিফটি হাঁকানো রিকেলটনকে। ২৮ বলে ৬১ রানের ইনিংসে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারেন তিনি।
এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ১৯ বলে ২৩ করে আউট হন। ১৮তম ওই ওভারেই ওমরজাই ফেরান ত্রিস্তান স্টাবসকে (১)।
শেষদিকে ডেভিড মিলার ১৫ বলে ২০ আর মার্কো জানসেন ৬ বলে ১৬ রানের দুটি ক্যামিও উপহার দেন। আফগানিস্তানের আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৩টি আর রশিদ খান নেন ২টি উইকেট।
ডিসি/আপ্র/১১/০২/২০২৬