গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬

মেনু

মিমিকে আগলে রাখতে আজীবন পাশে থাকতে চান নুসরাত

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:২০ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৮ এএম ২০২৬
মিমিকে আগলে রাখতে আজীবন পাশে থাকতে চান নুসরাত
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও তৃণমূলের প্রাক্তন সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তী ও নুসরাত জাহান। পেশাগত সম্পর্কের বাইরে তারা খুবই ভালো বন্ধু। টলিউডে তাদের ‘বোনুয়া’ বলেই ডাকে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মিমি চক্রবর্তীর জন্মদিন। এ উপলক্ষে মিমিকে নিয়ে মন খুলে কথা বলেছেন নুসরাত জাহান। 

মিমির সঙ্গে নানা স্মৃতি, ঝগড়া ও দূরত্ব নিয়ে অকপট এই অভিনেত্রী। নুসরাত জাহান বলেন, বিশ্বাস করুন, আমাদের বন্ধুত্ব এতটাও ‘শীতল’ নয়। হ্যাঁ, মাথাগরম হলে মিমি মুখের উপরে হয়তো বলবে, নুসরাতকে নিয়ে কিচ্ছু বলব না। ওর সঙ্গে আমার ঝগড়া। তারপরেও দিনের শেষে দেখা হলে হাসি চাপতে চাপতে জড়িয়ে ধরবে। 

এই ভাব এই আড়ি! এই যেমন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির বাড়িতে ঘটল। পদ্মশ্রী পাওয়ার আনন্দে বুম্বাদার বাড়িতে আমরা সবাই। মিমি এসেই আমায় দেখে এগিয়ে এল। উপস্থিত ছবিশিকারিরা কিন্তু আমাদের আলিঙ্গনে উষ্ণতা খুঁজে পেয়েছেন। মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করে নুসরাত জাহান বলেন, পুরুষেরা কতই না প্রেমপত্র লেখেন। 

বন্ধুর জন্মদিনে আমি না হয় বন্ধুত্বের খোলা চিঠি লিখলাম। আমাদের কত স্মৃতি। বন্ধুত্বের গোড়ার কথা আবছা। সম্ভবত ‘যোদ্ধা’ সিনেমার শুটিং। আমরা তখন এসভিএফ প্রযোজনা সংস্থায় কাজ করি। সিনেমাটিতে আমার একটি ‘আইটেম’ নাচ ছিল। 

প্রথম দেখা প্রযোজনা সংস্থার অফিসে। সিনেমায় আমরা বন্ধু। আমরা একসঙ্গে নাচের মহড়া দিতাম। মহড়ার পর আমি মিমির ঘরে, নয়তো মিমি আমার। বন্ধুত্বের সেই শুরু। তখন আমাদের কম করে দিন পনেরোর আউটডোর শুটিং থাকত। ওই ১৫ দিন আমরা পরস্পরের ছায়া। ওই সময় থেকে বন্ধুত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছোল যে, পরস্পরের গোপনকথা, গোপনব্যথাও আর অজানা রইল না!


নুসরাত জাহান বলেন, শুধু আড্ডা? খাওয়া-দাওয়া, ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, কেনাকাটা- সবকিছুতেই আমরা দু’জন। ও যে কী মিষ্টি, আপনাদের ধারণাই নেই! ঘুমোতে যাওয়ার আগে মিমির নির্দেশ, রোজ ক্যামোমিল টি খেতে হবে। কোথা থেকে জানি সেই চা আনিয়েছিল। নিজে হাতে চা বানাত। আমাকেও নিয়ম করে খাওয়াত। গরম জলে ক্যামোমিল দিলেই ফুটে উঠত ফুল। আমাদের বন্ধুত্বও যেন ওভাবেই পাপড়ি মেলেছিল। 

সকালের জলখাবার থেকে রাতের খাওয়া- এক মেন্যু আমাদের। একটি ঘটনা উল্লেখ করে নুসরাত জাহান বলেন, আমরা ব্যাংককে শুটিং করতে গিয়েছি। সারা দিন রোদের নিচে শুটিং। ত্বক পুড়ে ঝামা। কাজ ফুরোলে দুই বান্ধবী মিলে এত্ত টমেটো কিনে এনেছি! হোটেলে ফিরে সেগুলো চাকা চাকা করে কেটে একে অন্যের গায়ে ঘষছি। মিমি-নুসরাত যেমন ভালো সময় পার করেন, তেমনই ঝগড়াও করেন। 

এ বিষয়ে নুসরাত জাহান বলেন, দুই বন্ধু মিলে কত বেড়াতে গিয়েছি! লাস ভেগাস কিংবা লস অ্যাঞ্জেলেস। প্রচুর ভালো ভালো স্মৃতি। কত দুষ্টুমি করেছি। মিমি বরাবরের ‘ডেয়ার ডেভিল’। ‘বনগাঁকাণ্ড’ তো হালের। ওর চোখে কোনো কিছু অন্যায় মানেই তার প্রতিবাদ করবে। এখনকার মিমি তো অনেক পরিণত। 

আমি ‘বাচ্চা’ মিমিকেও দেখেছি। সেই ছেলেমানুষ মিমির রাগ হলেই ঝগড়া করে নেয়। আমাদের মধ্যে কম ঝগড়া হয়েছে? টিমের সামনে প্রচণ্ড ঝগড়া করেছি। রাতে ফাটাফাটি রাগ। পরের দিন সকালে মিমির ভালো ছবি কেউ তুলে দিতে পারছে না। আমি গিয়ে তুলে দিতেই ভাব। 

ব্যাখ্যা করে নুসরাত জাহান বলেন, আমি নিশ্চিত, আজও মিমি যখন প্যানকেক খায়, আমাকে মনে করে। এর পিছনেও তো স্মৃতি আছে। আমি আর ও রোজ রাতে চুপিচুপি বেরিয়ে প্যানকেক খেতাম। থাইল্যান্ডের সুনসান রাস্তা। ওখানকার ভাষায় প্যানকেকের নাম ‘ক্রেপস’। ফুটপাতে দু’জনে বসে পড়েছি। খাওয়া আর আড্ডা! ওখানে তো আমাদের কেউ চেনে না। 


মাঝে মিমি-নুসরাতের বন্ধুত্বে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, এ কথা যেমন অকপটে স্বীকার করেন, তেমনই তাদের বন্ধুত্ব কখনো নষ্ট হবে না বলে আত্মবিশ্বাসী নুসরাত। তার ভাষায়- এই বিশ্বাস থেকেই বলছি, আমার আর মিমির বন্ধুত্ব কোনো দিন নষ্ট হওয়ার নয়। হ্যাঁ, মাঝে হয়তো দূরত্ব বেড়েছিল। অভিমানও কি ছায়া ফেলেছিল? কিন্তু বন্ধুত্বের ‘মৃত্যু’ ঘটেনি। মিমিকে আগলে রাখার দায়িত্ব নুসরাতের। তার ভাষায়, আমি মিমির অনেক জন্মদিনের সাক্ষী। 

আমরা একসঙ্গে পার্টি করেছি। আর হইহুল্লোড় শেষে ঈশ্বরকে বলেছি, মিমি যেন একটুও না বদলায়। এক ইঞ্চি বদল চাই না ওর। যেমন আছে তেমনই থাকুক। সুখে থাকুক, শান্তিতে থাকুক। পরস্পরের অনেক ভালো-খারাপ সময়ের সাক্ষী আমরা। মিমিকে তাই আগলে রাখার দায়িত্ব আমার। 

টলিউড আমাদের ‘বোনুয়া’ নাম দিয়েছে। তুই নিশ্চিন্তে থাক। আজীবন তোর পাশে থাকবে তোর ‘বোনুয়া’।

 

ডিসি/আপ্র/১১/০২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

এই কৃতিত্ব আমার একার নয়, সবার: বুবলী
০৩ আগস্ট ২০২৬

এই কৃতিত্ব আমার একার নয়, সবার: বুবলী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ বড় পুরস্কার পেলেন ঢাকাই চলচ্চ...

এক ফ্রেমে আফজাল-মিমি!
০৩ আগস্ট ২০২৬

এক ফ্রেমে আফজাল-মিমি!

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একাধিক প্রশংসিত কাজে দেখা গেছে দেশের দুই গুণী অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন ও আফসানা মি...

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন
০৩ আগস্ট ২০২৬

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশে ফিরছেন ঢাকাই সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তি ইল...

প্যারিস মাতালেন নগর বাউল
০৩ আগস্ট ২০২৬

প্যারিস মাতালেন নগর বাউল

প্যারিসের আকাশে আজন্ম চেনাফ্রেমের বাইরে এক টুকরো বাংলাদেশ। গ্রীষ্মের তীব্র রোদ আর উষ্ণ হাওয়াকে তোয়াক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ে আইনি লড়াই শুরু সরকারের

দুবাইয়ে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করেছে সরকার। তার জামিন আদেশ বাতিলের উদ্যোগ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 23 ঘন্টা আগে