অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সাহসী ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সালীম সামাদ আর নেই। ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
সালীম সামাদের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সালীম সামাদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শুক্রবার তিনি হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখে আসেন। রোববার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে মিরপুর ১১ নম্বরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
১৯৫২ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন সালীম সামাদ। তিনি শাহীন স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৭৬ সালে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
সাংবাদিকতায় তিন দশকেরও বেশি সময় সক্রিয় থাকা সালীম সামাদ সংঘাত, নিরাপত্তা, জোরপূর্বক অভিবাসন, ইসলামি জিহাদ, সুশাসন, নির্বাচনি গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ নানা স্পর্শকাতর বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তাঁর সাহসী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৯০ সালে অশোকা ফেলো নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১ সালে পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ে অশোকা ফেলোশিপ লাভ করেন এবং ১৯৯৬ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের ফেলোশিপ কর্মসূচির আওতায় ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাডভোকেসি ইনস্টিটিউটে অংশ নেন।
সালীম সামাদের লেখা প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ঞরসব, ভারতের ওহফরধ ঞড়ফধু ও ঙঁঃষড়ড়শ, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অষ ঔধুববৎধ, হেরাল্ড ম্যাগাজিন, সাউথ এশিয়া ম্যাগাজিন, দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, ডেইলি এশিয়ান এজ, উইকলি ঢাকা কুরিয়ার এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স রিভিউসহ দেশ–বিদেশের নানা গণমাধ্যমে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ইউএসএআইডি, ইউনিসেফ, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন ও দুবাই কেয়ার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
২০০২ সালের ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তৎকালীন সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পাশাপাশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও তিনি পরবর্তীতে উল্লেখ করেন। প্রায় ৫০ দিন পর তিনি কারামুক্ত হন। ২০০৪ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার কথাও তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন; ছয় বছর পর দেশে ফিরে আবার সাংবাদিকতা শুরু করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ঢাকা ট্রিবিউন, শুদ্ধস্বর ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স রিভিউসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত কলাম লিখতেন।
সালীম সামাদের মৃত্যুতে সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর ঘনিষ্ঠজন মহিউদ্দিন আহমদ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘সুহৃদ সালীম সামাদ আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। তার মতো সাহসী সাংবাদিক আমার চোখে পড়েনি। তার আত্মার শান্তি হোক।’
সানা/ডিসি/আপ্র/২২/২/২০২৬