গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মেনু

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ

অন্তবিহীন পথ পেরিয়ে ব্যালটের যুদ্ধে বাংলাদেশ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৪:৫৭ এএম ২০২৬
অন্তবিহীন পথ পেরিয়ে ব্যালটের যুদ্ধে বাংলাদেশ
ছবি

প্রতিনিধিত্বকারী ছবি

দীর্ঘ দেড় বছরের অনির্বাচিত সরকারের অধীনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর অবশেষে দেশের মানুষ আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করবে। অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই নির্বাচন নিয়ে নানা গড়িমসির কারণে সংশয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন সব সংশয় কেটে গিয়ে ভোট কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছেছে ব্যালট, ভোটারদের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন। ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা চলবে।
এই নির্বাচনের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি (প্রতীক ধানের শীষ), যার চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (প্রতীক দাঁড়িপাল্লা), যার আমির ডা. শফিকুর রহমান।

নির্বাচন প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা: শেরপুর-৩ বাদে এবার ২৯৯টি আসনে ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে, যেখানে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। 
এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে হওয়ায় সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে ৯ ঘণ্টা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত। এ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ মোট প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা।
২১ হাজার কেন্দ্রকে ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাত বাহিনী মোতায়েন থাকছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আনসারসহ মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নজরদারি, সিসিটিভি, ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এছাড়া, নির্বাচন কমিশন ও বিমানবাহিনী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করবেন।

নির্বাচনে যুবাদের প্রাধান্য: মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে ৩৫ বছরের নিচে ভোটার রয়েছেন প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ। তরুণ ভোটারের উপস্থিতি নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করবে বলে ইসি মনে করছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটাররা ভোটের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত।

ব্যালটে নেই নৌকা, সমর্থকের দ্বিধা: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবার ভোটের মাঠে নেই। তাই নৌকা সমর্থকরা দ্বিধায়-ভোট দিলেও কাকে দিচ্ছে তা নিশ্চিত নয়, না দিলেও চিহ্নিত হবেন আওয়ামী সমর্থক হিসেবে। এটি ভোটের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বড় ঐতিহাসিক দলের অনুপস্থিতি ভোটের গ্রহণযোগ্যতায় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

কী হতে পারে ফলাফল? মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি এগিয়ে থাকবে। তবে বাস্তবের ফলাফল কে বিজয়ী হবেন তা এখনো অনিশ্চিত। বিএনপির প্রতি মানুষের আস্থা কেবল রাজনৈতিক নয়; দীর্ঘ সময়ের ভোটবঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাবও এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বিএনপি, জামায়াত ও নতুন দল এনসিপি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূলকেন্দ্রে। এবার বিএনপি জোটের প্রার্থীরা ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি’ হিসেবে দাবি জানাচ্ছেন, যা ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করছে। আবার জামায়াতে জোটের প্রার্থীরা বিএনপির অতীতের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিকে প্রচারণার মূল করায় ভোটাররা প্রভাবিত হয়েছেন।


সংখ্যালঘু ভোটার ও নিরাপত্তা উদ্বেগ: চট্টগ্রাম ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটারদের বাড়িঘরে আগুন ও ভীতি তৈরির অভিযোগ, রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা নির্বাচনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়। ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা নির্বাচন ব্যবস্থার মান পরীক্ষা করবে।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও সেবা: রাজধানী ও জেলা শহরগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় ভোটার স্লিপ বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ভোটাররা এখানে এসে ভোটকেন্দ্র, ক্রমিক নম্বর ও প্রার্থী/প্রতীকের তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন। এছাড়া স্মার্টফোন অ্যাপ, হটলাইন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভোটাররা সহজে তথ্য পেতে পারছেন।

গণতন্ত্রের পরীক্ষা: ভোট মানে কেবল সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, আস্থা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের উপায়। যদি নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হয়, তবে এটি হবে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের সূচনা। আর ব্যর্থ হলে, জুলাই ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর তৈরি হওয়া গণতান্ত্রিক আশার জায়গাটিও হারিয়ে যেতে পারে।
জনমনে প্রশ্ন এখন, এই ভোট কি মানুষের রায় সত্যিই প্রতিষ্ঠিত করবে, নাকি আবারো গণতন্ত্রকে অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দেবে? জনগণ অপেক্ষা করছে, ব্যালটের মাধ্যমে ইতিহাসে নিজেদের অবস্থান চিহ্নিত করতে-এটাই হবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় জয় বা পরাজয়।

সানা/আপ্র/১২/২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস, ফিরবেন যেকোনও সময়
৩০ জুন ২০২৬

সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস, ফিরবেন যেকোনও সময়

সুস্থ হয়ে উঠছেন মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধা...

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২৯টি খাল দখলমুক্ত করবে ডিএনসিসি
৩০ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২৯টি খাল দখলমুক্ত করবে ডিএনসিসি

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন মুসলিম বাজার খালসহ ২৯টি খাল...

একসঙ্গে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত
৩০ জুন ২০২৬

একসঙ্গে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত

শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত...

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
২৯ জুন ২০২৬

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে রিট বিতর্ক ও হেয় প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার একটি প্রচেষ্টা। আপনি কি মনে করেন চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে