স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে কোনো ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান বা যেকোনো ধরনের অনিয়ম ঘটলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দফতরের অপারেশন কন্ট্রোল রুম এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট ও মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শনকালে এ হুঁশিয়ারি দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান জানান, সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি পুলিশ সদস্যদের সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এবং ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ পর্যবেক্ষণ করেন।
ড্রোনের মাধ্যমে ভোটের মাঠ মনিটরিং করবে বিমানবাহিনী: এমন পরিস্থিতি নজরে রাখতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নির্বাচনে ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) মোতায়েন করছে। কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। বিমানবাহিনী প্রধানের তত্ত্বাবধানে হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান এবং ইউএভি ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটর করা হবে। ইউএভি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মাঠে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হবে।
বিশৃঙ্খলা হলে র্যাবের জিরো টলারেন্স: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিয়ে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে র্যাব সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের বলেন, “যারা ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট বা ভোটকেন্দ্রে হামলার চেষ্টা করবে, তাদের প্রচণ্ড ঝুঁকিতে পড়তে হবে। র্যাব ইতস্তত করবে না।
র্যাবের সর্বাধিক প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ড্রোন, সিসি ক্যামেরা এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা সারাদেশে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
সেনাবাহিনী তল্লাশি ও চেকপোস্টে প্রস্তুত: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শিশুমেলা এলাকায় শেরেবাংলা নগরের ২৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। মেজর ফুয়াদ জানান, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই প্রধান উদ্দেশ্য। মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে এবং আইন ভঙ্গকারীকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
ঢাকায় ভোটের দিনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরীতে ২৬ হাজার ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্বে মোতায়েন। স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম, রিজার্ভ ফোর্স, সোয়াট, কে-৯ ইউনিট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে থাকবে।
তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। পুলিশ সর্বদা আপনার পাশে রয়েছে।
সানা/আপ্র/১২/২/২০২৬