কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াকোলা আব্দুল মতিন খসরু গার্লস হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাছিনা ইসলামকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে বিদ্যালয়ের সীমানায় প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন আমিনুল ইসলামকে আদালতে তলব করা হলে তিনি হাই কোর্টের আদেশ অমান্য করার বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চান। এর আগে আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার কথা বললেও পরে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে আদালতের আদেশ মেনে চলা এবং বিদ্যালয়ের আশপাশে না যাওয়ার অঙ্গীকার করায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়নি।
হাছিনা ইসলামের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, হাই কোর্টের আদেশ থাকার পরও আমিনুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন করা হয়।
‘মব করে’ সরানোর অভিযোগ: ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আমিনুল ইসলামের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে হাই কোর্ট রুল জারি করেন।
মামলার আইনজীবী তানভীরের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম ওই রুলকে পুনর্বহালের আদেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেন এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াত শুরু করেন।
সে সময় হাছিনা ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ বিদ্যালয় খোলার পর আমিনুল ইসলাম ২০ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে হাছিনা ইসলামকে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার ছেড়ে দিতে বলেন।
হাছিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তাঁকে দায়িত্ব পালনের জন্য দেওয়া চিঠির বিষয়টি জানিয়ে তিনি চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাঁকে চেয়ার থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন তাঁকে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ওই ঘটনায় থানায় মামলা হলে আমিনুল ইসলাম গ্রেফতার হন। ছয় দিন কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
পরে হাছিনা ইসলাম হাই কোর্টে আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের পর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ আমিনুল ইসলামকে পুনর্বহাল না করার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন বলে জানান আইনজীবী তানভীর।
তাঁর দাবি, ওই আদেশের পরও আমিনুল ইসলাম সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়।
বরখাস্তের কারণ নিয়ে অভিযোগ: আমিনুল ইসলামের বরখাস্তের কারণ সম্পর্কে হাছিনা ইসলাম বলেন, তাঁর নিয়োগ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে একাধিক তদন্ত হয়েছে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হয়েছে। আমিনুল ইসলাম ২০১০ সালে বিদ্যালয়ে যোগ দিলেও ২০০৪ সালের নিয়োগ দেখিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
হাছিনা ইসলামের অভিযোগ, ওই নিয়োগে তাঁর এবং কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিন দফা তদন্ত হয়েছে এবং জেলা শিক্ষা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদন্তেও নিয়োগসংক্রান্ত জালিয়াতি প্রমাণিত হয়েছে।
পরে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার ছেলেকে মারধরের একটি ঘটনায় আমিনুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্ত হন। এরপর ২০২৪ সাল থেকে হাছিনা ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৯/৯/২০২৬