গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

নারীবান্ধব পুলিশিং জোরদারে নানা উদ্যোগ, বাড়ছে নারী সদস্য

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৬ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৪ এএম ২০২৬
নারীবান্ধব পুলিশিং জোরদারে নানা উদ্যোগ, বাড়ছে নারী সদস্য
ছবি

ছবি সংগৃহীত

নারীবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করতে নারী পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি, থানার সেবাকেন্দ্র আধুনিকায়ন এবং কর্মরত নারী সদস্যদের সন্তানদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা মোকাবিলা এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, অনলাইন সহিংসতা, বিদ্বেষমূলক আচরণ ও হেনস্তার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো কার্যকর ও সংবেদনশীল করে তুলতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলমান পুলিশ সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং নারীবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণে কাজ চলছে।

আট বিভাগীয় শহরে দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমসংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে পঞ্চম সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে রাজধানীর উত্তরায় একটি দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। এসব কেন্দ্র চালু হলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সন্তানদের পরিচর্যার ক্ষেত্রে নারী পুলিশ সদস্যরা সহায়তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলার সদর থানায় নারী, শিশু ও প্রবীণদের জন্য নির্ধারিত সেবাকেন্দ্রগুলোকে আদর্শ সেবাকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রেঞ্জ ও মহানগর পুলিশ ইউনিটে ইতিমধ্যে নারী পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের চাহিদা অনুযায়ী আরো নারী সদস্য মোতায়েনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

৯২ থানায় নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্র

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের অর্থায়নে পরিচালিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়াবিষয়ক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং কক্সবাজার, বান্দরবান, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বরগুনা, জামালপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাটসহ ১০টি জেলার ৯২টি থানায় নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে নারী, শিশু ও প্রবীণদের অধিকার এবং আইনি সহায়তা বিষয়ে প্রাথমিক সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অবশিষ্ট ৫৪টি জেলা সদর থানার নারী, শিশু ও প্রবীণ সেবাকেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়নের জন্য নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে সেবাকেন্দ্রগুলোকে আদর্শ সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।

পুলিশে নারী সদস্য প্রায় ১৮ হাজার

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে নারী সদস্যের সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৭০ জন, যা বাহিনীর মোট সদস্যের ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সমপর্যায়ের পদ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা বাহিনীর প্রতিটি স্তরে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।

তার ভাষায়, ‘কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারী সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। কর্মদক্ষতার দিক থেকে তারা কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই।’

বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় নারী পুলিশ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, পোশাকশিল্পে অধিকাংশ শ্রমিক নারী হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া শিল্প খাতের শ্রমিক অসন্তোষ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হতো।

তদন্ত ও নেতৃত্বে আরো সুযোগ চান নারী কর্মকর্তারা

মহানগর পুলিশে কর্মরত এক নারী উপপরিদর্শক জানান, নারী কর্মকর্তারা বড় ধরনের অভিযান পরিচালনাসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সক্ষম। তবে তাদের জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম, অপরাধ তদন্ত এবং অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পুলিশে প্রথম নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয় ১৯৭৪ সালে। শুরুর দিকে নারীদের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনিক ও সীমিত কিছু কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকলেও সময়ের সঙ্গে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।

বর্তমানে কনস্টেবল, সহকারী উপপরিদর্শক, উপপরিদর্শক, পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার, উপমহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সমপর্যায়ের পদেও নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

মহানগর ও জেলা পুলিশ ইউনিটের পাশাপাশি সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন, বিশেষ শাখা, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, পর্যটন পুলিশ, মহাসড়ক পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং পুলিশ সদর দপ্তরেও নারী সদস্যরা কাজ করছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা।

নেতৃত্ব ও দক্ষতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন ও নেতৃত্বের সুযোগ সম্প্রসারণে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সংগঠনটির ২০২৪ থেকে ২০২৭ মেয়াদের কৌশলগত পরিকল্পনায় পুলিশে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং পেশাগত ও তদন্ত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং লিঙ্গসংবেদনশীল পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাহিনীতে নারীদের নেতৃত্ব, অপরাধ তদন্ত ও অভিযান পরিচালনাসংক্রান্ত দায়িত্বের পরিধি সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এসি/আপ্র/২৮/৯/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন, বরখাস্ত ৫ পুলিশ সদস্য
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন, বরখাস্ত ৫ পুলিশ সদস্য

আদালতে হাজিরা দিয়ে গাজীপুরের কারাগারে আনার পথে শৌচাগারের কথা বলে ২৫ মামলার আসামি পিচ্চি রাজা পালানোর...

রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, যেমন থাকবে তাপমাত্রা
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, যেমন থাকবে তাপমাত্রা

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দুপুরের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নে...

কর্মজীবী নারীদের যাতায়াতে চালু হচ্ছে আরো ১০০ বাস
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কর্মজীবী নারীদের যাতায়াতে চালু হচ্ছে আরো ১০০ বাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, নারীদে...

ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আমি মর্মাহত, দ্রুত সংস্কার করে সেবা চালু হবে
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আমি মর্মাহত, দ্রুত সংস্কার করে সেবা চালু হবে

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের দোসরদের গ্রেফতারে পুরস্কারের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এ ধরনের ব্যক্তিদের গ্রেফতারে যারা ভূমিকা রাখবেন, তাদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মন্ত্রীর এই ঘোষণার পক্ষে না বিপক্ষে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে