কলা খাওয়ার পর এর খোসা ফেলে দেওয়াই স্বাভাবিক অভ্যাস। তবে এই সাধারণ খোসাই হতে পারে চুলের যত্নে কার্যকর একটি প্রাকৃতিক উপাদান। চুল পড়া, রুক্ষতা ও প্রাণহীনতার মতো সমস্যায় ঘরোয়া উপায়ে কলার খোসা ব্যবহার করে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
কলার খোসায় থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, সি ও ই এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় ও স্ক্যাল্পকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। পটাশিয়াম আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, ভিটামিন ই চুলের ফলিকল মজবুত করে এবং সিলিকা চুলের স্থিতিস্থাপকতা বাড়িয়ে ভাঙন কমায়।
চুল রুক্ষ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো স্ক্যাল্পের আর্দ্রতার ঘাটতি। গরম, ধুলাবালি ও অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারে এই সমস্যা বাড়ে। কলার খোসার প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ এই ঘাটতি পূরণ করে চুলকে নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।
কলার খোসা দিয়ে সহজেই ঘরোয়া কন্ডিশনার তৈরি করা যায়। খোসা ফুটন্ত পানিতে সেদ্ধ করে ঠান্ডা করে সেই পানি শ্যাম্পুর পর ব্যবহার করলে চুল কোমল হয়। আবার খোসার ভেতরের অংশ দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করলে রুক্ষতা কমে।
খুশকি বা ফ্রিজি চুলের ক্ষেত্রে কলার খোসা ও নারিকেল তেলের মিশ্রণ উপকারী হতে পারে। প্রয়োজনে এতে সামান্য টি ট্রি অয়েল যোগ করা যায়। এছাড়া কলার খোসা, দই ও মধুর মিশ্রণ চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক।
তবে যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগে অ্যালার্জি পরীক্ষা করা জরুরি। হাতে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে দেখে নেওয়া উচিত কোনো প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না। সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কলার খোসা চুলের যত্নে সহায়ক হলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। জেনেটিক বা গুরুতর স্ক্যাল্প সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম। তবু সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী এই উপাদানটি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে চুলের যত্নে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
সূত্র: হেলথশটস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ফেমিনা
এসি/আপ্র/২৫/০৪/২০২৬