রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের ধমনি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা এ ঝুঁকি দ্বিগুণ করতে পারে।
বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এতে কেউ মারা যাচ্ছেন, আবার কেউ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকছেন। বিশ্বজুড়ে মৃত্যু ও অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ স্ট্রোক। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বেশিরভাগ স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কিন্তু শুধু হাঁটলেই কি স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব, নাকি প্রয়োজন শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও? যোগাসনই বা কতটা কার্যকর?
হাঁটা
চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে দ্রুত হাঁটা সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর অভ্যাসগুলোর একটি। এ জন্য জিমে যাওয়া কিংবা দামি সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নিয়মিত দ্রুত হাঁটলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়। তবে যারা দীর্ঘদিন শরীরচর্চা করেননি, তাঁদের শুরুতেই ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা না করে অল্প সময় দিয়ে শুরু করা উচিত। পরে ধীরে ধীরে হাঁটার সময় ও গতি বাড়ানো যেতে পারে।
শক্তিবর্ধক ব্যায়াম
শুধু হাঁটলে শরীরের সব পেশির স্বাস্থ্য রক্ষা হয় না। এ কারণে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এ জন্য ভারী ওজন তোলার প্রয়োজন নেই। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা ওজন, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড কিংবা শরীরের নিজস্ব ওজন ব্যবহার করেও এ ধরনের ব্যায়াম করা যায়।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে রজোনিবৃত্তির পর পেশি ও হাড়ের ক্ষয় দ্রুত শুরু হতে পারে। তাই এ সময়ে শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পেশির স্বাস্থ্য ভালো থাকলে শরীরের ওজন ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হয়। আর এ দুটি বিষয়ই স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
যোগাসন
যোগাসন শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত যোগাসন করলে রক্তচাপ সামান্য কমতে পারে।
তবে যোগাসনকে হাঁটার বিকল্প হিসেবে দেখার পরামর্শ দেননি চিকিৎসকেরা। বরং হাঁটার পাশাপাশি যোগাসন করলে শরীরচর্চার রুটিনে আরও ভারসাম্য আসে। সকালে অথবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ যোগাসন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করা যেতে পারে।
তিন ধরনের শরীরচর্চার সমন্বয়
এই তিন ধরনের শরীরচর্চার মধ্যে কোনো একটিকে আলাদাভাবে শ্রেষ্ঠ বলা যায় না। বরং সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটা, দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং প্রতিদিন সকালে ও রাতে যোগাসন করার সমন্বিত অভ্যাস কার্যকর হতে পারে।
তবে শুধু শরীরচর্চা করলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে না। এর পাশাপাশি রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো এবং ধূমপান বন্ধ করার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এসি/আপ্র/০৩/১১/২০২৬