যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ, প্রোটিন তৈরি, রক্ত পরিশোধন ও হজমে সহায়তাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যকৃৎ। তাই এই অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্যে।
সাধারণত অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএলের মাত্রা কম থাকা এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ে। কার্বোহাইড্রেট ও চর্বির বিপাকপ্রক্রিয়ায় সমস্যাও এর অন্যতম কারণ।
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার রাখলে যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। এমন পাঁচটি খাবার হলো—
১. সবুজ শাক ও সবজি
মেথি, পালংশাক ও পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
২. তৈলাক্ত মাছ
তৈলাক্ত মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এটি শরীরের প্রদাহ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখা যকৃতের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. আখরোট
আখরোটে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও আর্জিনিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। এগুলো যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। আখরোটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
৪. বিট
বিটে রয়েছে খাদ্যআঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নাইট্রেট। এসব উপাদান শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। বিটের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।
৫. লেবু ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল
লেবু, আমলকি ও পেয়ারা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল। ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে এসব ফল খাওয়া যকৃতের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবার খেলেই ফ্যাটি লিভার সেরে যায় না। ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
এসি/আপ্র/০১/১১/২০২৬