ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই কাজী ইকবাল হোসেন আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় বসবাস করতেন। রোববার নিজ বাসার কক্ষ থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়।
চিরকুটে লেখা ছিল, “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া...।”
ঘটনার পরদিন শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয় এবং তদন্তের স্বার্থে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে সুদীপকে আটক করা হয়। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ‘তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে’ বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত চলমান থাকায় এবং ভবিষ্যতে রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে বিবেচনায় তাকে কারাগারে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ জামিন চেয়ে শুনানিতে বলেন, অভিযোগটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার এবং আসামির বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ—রাত একটার দিকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলা। তিনি দাবি করেন, সুদীপ চক্রবর্তী একজন ভদ্র ও দায়িত্বশীল শিক্ষক এবং জামিন পেলে তার অপব্যবহার করবেন না।
তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। শুনানির সময় তাকে এজলাসে তোলা হয়নি; সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।
মামলাটি এখনও তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সানা/আপ্র/২৭/৪/২০২৬