গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬

মেনু

চাঁদের আলোয় ঈদের গল্প, তরুণদের চোখে উৎসবের আনন্দ

Super Admin

Super Admin

প্রকাশিত: ১৩:৩৫ পিএম, ২১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১৮ এএম ২০২৬
চাঁদের আলোয় ঈদের গল্প, তরুণদের চোখে উৎসবের আনন্দ
ছবি

ছবি আজকের প্রত্যাশা

আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ঈদ শব্দটির অন্তরালে জড়িয়ে আছে আবেগ আর নানা বিশেষণের। ঈদ হৃদয়ের গভীর থেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশের একটি উৎসব। হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের ভাব বিনিময়ের একটি উৎসব। যে উৎসবে একে অপরের প্রতি প্রকাশ করে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা।

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে বয়ে আনে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি আর সাম্যের বার্তা। এই উৎসব নিয়ে তারুণ্যের আগ্রহ আর উদ্দীপনার মাত্রা যেমন বেশি থাকে, তেমনি থাকে বৈচিত্র্যময় নানান ভাবনার। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ নিয়ে সেই ভাবনাগুলোর কথা তুলে ধরেছেন প্রতিনিধি আবু তাহের।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, স্মৃতি ও আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক বিশেষ দিন। বিশেষ করে ছোটবেলায় ঈদ আসা মানেই ছিল এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস ও অপেক্ষা। নতুন জামা পাওয়ার আনন্দ, সকালে ঘুম থেকে উঠে সেমাই ও পায়েস খাওয়া, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে মেলায় ঘুরে বেড়ানো সব মিলিয়ে ঈদের দিনগুলো ছিল নির্মল আনন্দে ভরা। তখন ছোট ছোট বিষয়ই আমাদের কাছে অনেক বড় সুখের উৎস হয়ে উঠত। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই অনুভূতিগুলোর মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। বড় হওয়ার সাথে সাথে জীবনে যোগ হয়েছে দায়িত্ব, ব্যস্ততা এবং নানা বাস্তবতা। তাই এখন ঈদ এলেও অনেক সময় আগের মতো সেই নির্ভেজাল উচ্ছ্বাসটা আর ততটা অনুভূত হয় না। আগে যেখানে ঈদের আনন্দ ছিল সরলতা আর একসাথে সময় কাটানোর মাঝে, এখন সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই জায়গা নিয়েছে ব্যস্ততা ও আনুষ্ঠানিকতা। তবুও ঈদের আসল সৌন্দর্য এখানেই যে, এটি আমাদের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পারিবারিক বন্ধনের কথা মনে করিয়ে দেয়। ঈদ আমাদের শেখায় একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে, কষ্ট ভুলে একসাথে থাকার গুরুত্ব বুঝতে এবং মানবিকতার মূল্য উপলব্ধি করতে। তাই হয়তো আগের মতো না হলেও, ঈদের প্রকৃত আনন্দ এখনো খুঁজে পাওয়া যায় পরিবারের সাথে সময় কাটানো, প্রিয়জনদের হাসিমুখ দেখা এবং পুরোনো সুন্দর স্মৃতিগুলো মনে করার মধ্যেই।

পপুলেশন সায়েন্সে বিভাগের শিক্ষার্থী এলাহী মঞ্জুর ইমন বলেন, ঈদ একসময় ছিল নিখাদ আনন্দের প্রতীক—নতুন জামা, নামাজ শেষে কোলাকুলি, মেলায় ঘুরে বেড়ানো আর সেমাইয়ের ঘ্রাণে ভরা দিন। এখন সময় বদলেছে; ব্যস্ততা ও প্রযুক্তির ভিড়ে সেই সরল আনন্দ কিছুটা ম্লান। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঈদের আনন্দটাও কিছুটা বদলে গেছে, মেলায় যাওয়া বা বন্ধুদের সঙ্গে  ঘোরাঘুরি আগের মতো দেখা যায় না, অনেকেই ঈদের আনন্দ সীমাবদ্ধ রাখে মোবাইলের পর্দায়। তবুও ঈদ হারিয়ে যায়নি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করা আর একসঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই আজও ঈদের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। তাই বলা যায়, ঈদের আনন্দ কমেনি—বরং বদলে গেছে তার রূপ।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সেবিকা তালুকদার বলেন, ঈদ একসময় শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব ছিল না—এটা ছিল এক ধরনের অনুভূতি, একসাথে থাকার আনন্দ। ছোটবেলায় ঈদ মানেই ছিল নতুন কাপড়ের গন্ধ,সেই কাপড় কাউকেই দেখাতাম না একদম ঈদের দিন বের করতাম, সকালে আব্বু  নামাজ শেষে সবার সঙ্গে কোলাকুলি করত, তারপর গরম গরম সেমাই খাওয়া। বিকেলের দিকে কাজিনরা একসাথে মেলায় যাওয়া, নাগরদোলা চড়া, ছোট ছোট খেলনা কেনা—এসবই ছিল ঈদের আসল আনন্দ। কিন্তু এখন মনে হয় সেই ঈদের আবহটা অনেকটাই বদলে গেছে। আগের মতো পাড়া ভরে হাসি-আনন্দ দেখা যায় না। অনেকেই ব্যস্ত নিজের কাজে, কেউ মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটায়। আগে যেখানে ঈদের দিনটা মানেই ছিল সবাই মিলে ঘুরাঘুরি, আত্মীয়দের বাসায় যাওয়া, এখন সেটা অনেকটাই কমে গেছে। হয়তো সময় বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রাও বদলেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়—ঈদের সেই সহজ সরল আনন্দগুলোই ছিল সবচেয়ে সত্যিকারের। মেলায় যাওয়া, সেমাই খাওয়া, পরিবারের সাথে ঘুরে বেড়ানো—এসব ছোট ছোট মুহূর্তই ঈদকে এত সুন্দর করে তুলত। তাই আজও ঈদ এলে মনে প্রশ্ন জাগে—ঈদের আনন্দ কি সত্যিই কমে গেছে, নাকি আমরা বড় হয়ে গেছি বলেই সেই আনন্দটা আর আগের মতো অনুভব করতে পারি না?

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাইম বলেন, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে যায়- এই কথাটা প্রায়ই শুনি। হ্যাঁ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, আনন্দের রূপ বদলে গেছে, কিন্তু হারিয়ে যায়নি। একটা সময় ঈদকার্ড, সালামি পাওয়া কিংবা ঘুরে-বেড়ানোর মাঝে আনন্দ থাকলেও এখন সালামি পাওয়ার চেয়ে সালামি দিতে বেশি ভালো লাগে। ছোট বাচ্চারা ৫ টাকা পেলেও কিয়ে তাদের উচ্ছ্বাস আর খুশি! দেখলেই ভালো লাগে। এখন হাতে কিছু টাকা থাকলেই মনে হয় বাসায় সবার জন্য টুকটাক খরচ করি। নিজের জন্য নতুন জামা নেওয়াটা বাধ্যতামূলক মনে হয় না। না নিলেও চলবে এমন। শৈশবে ঈদের দিনে মজার মজার খাবার খাওয়ার অপেক্ষায় থাকতাম। ঘরে মা কোমড় বেঁধে কত কাজ করত বুঝতাম না। এখন ঈদে মায়ের পাশে কাজ এগিয়ে দিলে মা স্বস্তিতে থাকেন তা দেখে ভালো লাগে। কালের বিবর্তনে আনন্দ পাওয়ার ক্ষেত্র পরিবর্তন হয়েছে, ধরন পাল্টেছে, কিন্তু বিলীন হয়ে যায়নি।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে কাঁধে যেমন দায়িত্ব আসে, তেমনি হারিয়ে যেতে থাকে অনেক মধুর স্মৃতি। ছোটবেলায় ঈদের আনন্দ শুরু হয়ে যেত রোজার ২৭ তারিখ থেকেই-মেহেদী দিয়ে হাত রাঙানো, নতুন জামা কেনার উত্তেজনা, চাঁদ দেখার আনন্দ। ঈদের রাতে সারা রাত জেগে মা-দাদুকে পিঠা বানাতে সাহায্য করা, আর সকালে ভোরে উঠে গোসল করে সেমাই-পিঠা খাওয়া, বড়দের থেকে সালামি নেওয়া,সবকিছুই ছিল ভীষণ আনন্দের। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেইসব স্মৃতি যেন ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে। এখন আর ঈদে আগের মতো ছুটাছুটি নেই, নেই তেমন আয়োজনও। বছরের অন্য পাঁচটা দিনের মতোই দিনটা কেটে যায়।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ঐশিক নূর বলেন, ঈদ মানেই আনন্দ। ছোটবেলায় ঈদ মানে ছিলো ভরপুর খাওয়া দাওয়া, হইহুল্লোড় করা, ঘুরে বেড়ানো, চাঁদ রাতে বোম ফাটানো ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সব কিছু বদলে যায়। বড় হওয়ার পর সেই ছোটবেলার দুষ্টু - মিষ্টি আনন্দ খুঁজে না পেলেও বাড়ির সবার সাথে ঈদ করতে পারাটা এখন আনন্দের ও শান্তির ব্যাপার।
সানা/আপ্র/২১/৩/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

৮ ভিসিকে একযোগে অপসারণ, ইউটিএলের উদ্বেগ
১৮ মার্চ ২০২৬

৮ ভিসিকে একযোগে অপসারণ, ইউটিএলের উদ্বেগ

একসঙ্গে ৮ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) আকস্মিক পরিবর্তনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে...

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য
১৬ মার্চ ২০২৬

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য

ইউজিসিতেও চেয়ারম্যান নিয়োগ

৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি
১৬ মার্চ ২০২৬

৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি

ঢাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম
১৬ মার্চ ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যাল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই