গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

মেনু

স্মৃতির আয়নায় তারকাদের ঈদ আনন্দ

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:০৭ পিএম, ২১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৫৬ এএম ২০২৬
স্মৃতির আয়নায় তারকাদের ঈদ আনন্দ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি, চারদিকে পড়ে যায় সাজ সাজ রব। আর কদিন পরেই আসছে আনন্দের সেই মহেন্দ্রক্ষণ পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের চাঁদ আকাশে দেখা মাত্রই শহর থেকে বন্দরে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে খুশির জোয়ারে ভেসে যান সবাই! বাঁধভাঙা আনন্দে আত্মহারা হন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। শোবিজের তারকারাও এই আনন্দের বাইরে নন। ছোটবেলায় কেমন ছিল তাদের ঈদ, সেইসব স্মৃতির গল্পই এবারে তুলে ধরা হলো:
মৌসুমী
ছোটবেলায় ঈদগুলোতে অনেক আনন্দ করতাম। তখন ঈদের আনন্দ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত। এখন অবশ্য সেরকম হয় না। সেসব দিন খুব মিস করি।

আমি তখন খুলনাতে থাকতাম। ঈদের আগের দিন রাতে ভাইবোন-বন্ধুরা মিলে চাঁদ দেখার অপেক্ষায় উঠোনে বসে থাকতাম—কখন চাঁদ উঠবে আর বাজি ফোটানো শুরু হবে। উপস্থিত সবার হাতে একটি করে বাজি-পটকা থাকত। যেই চাঁদের দেখা মিলত, তখনই পটকা ফোটানো শুরু করতাম।

তখন আমাদের সবার হৈ-হুল্লোড়, পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখতাম। একটু রাত বেশি হলে ঘরে গিয়ে নতুন জামা-কাপড় দেখা শুরু করতাম। আমি ক্ষণে ক্ষণে নিজের ড্রেসগুলো দেখতাম।


জয়া আহসান
ঈদ কতটা আনন্দের তা অনুভব করা যায় শৈশব-কৈশোরে। এখন তো ঈদ মানে এক টুকরো অবসর।

ব্যস্ত জীবনে অবশ্য এটাই অনেক বড় পাওয়া। তাই উপলক্ষ ঈদ হলেও ছুটিটা ভালোই লাগে। যদিও এখন আর ঈদে ছোটবেলার সেই আনন্দ খুঁজে পাই না, শুধু একটা দিন কাটানো ছাড়া আর কিছুই বিশেষ উপলব্ধিতে থাকে না। তারপরও চেষ্টা করি দিনটা প্রিয় কিছু মানুষদের সঙ্গে কাটাতে। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আড্ডা, দাওয়াত—এগুলো বেশ ভালোই লাগে। পরিবারের সঙ্গে অন্যরকম একটা সময় কাটানো হয়। আমি মনে করি, ঈদের আনন্দ মূলত ছোটদের জন্যই। সপ্তাহজুড়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা যায়। এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি, এখানে-সেখানে নানা জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। ঈদ এলে ছোটদের মধ্যেই আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। শুধু ঈদের দিন নয়, ঈদের দু’তিন দিন আগে থেকেই অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। ছোটবেলায় আমরাও তাই করেছি। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে আনন্দ কমতে শুরু করেছে। এখন ঈদ মানে ব্যস্ত হতে হয় ঘরের সব কাজ নিয়ে। ঘর গোছানো, রান্নাবান্না-এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। এক কথায় ব্যস্ততার মধ্যেই কেটে যায় ঈদের দিনটি। এরপর রাতে অল্প সময়ের জন্য টিভি সেটের সামনে বসা হয়। ঈদের অনুষ্ঠানগুলো দেখি। শরীর ক্লান্ত থাকায় খুব বেশি রাত জাগা হয় না। ঈদের পরদিন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় যাওয়া হয়। তাদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া হয়।


ঈশিতা
শৈশবের ঈদের চেয়ে এখনকার ঈদ আমার কাছে বেশি প্রিয়। কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক এটাই সত্যি। কারণ আমার বেশিরভাগ আত্মীয়-স্বজন দেশের বাইরে থাকেন। সে কারণে ছোটবেলায় ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার তেমন সুযোগ হয়নি। এখন ঈদ আনন্দময় মনে হয় এ কারণে, শ্বশুরবাড়িতে সবাই মিলেমিশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি। উৎসব উপলক্ষে সন্তানদের হাসিমুখ আমাকে বেশি খুশি করে। তাদের নিয়ে আনন্দ করি, আড্ডা দেই অতিথি ও বন্ধুদের সঙ্গে। সব মিলিয়ে ঈদ হয়ে ওঠে সত্যিই আনন্দের।

পূর্ণিমা
সবসময় ঈদে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে চেষ্টা করতাম। আমার মা বিশেষ করে আমাদের দুই বোনের জন্য স্পেশাল ডিজাইন করে ঈদের জামা বানাতেন। এরপর সেগুলো লুকিয়ে রাখতাম। যাতে কেউ ঈদের জামা দেখতে না পায়। কেউ যাতে না বুঝতে পারে কী রঙ বা কোন ধরনের পোশাক। এসব নিয়ে সে সময় বান্ধবীদের মধ্যে খুব আগ্রহ লক্ষ্য করতাম। ঈদের দিন সে জামা পরে সবাইকে চমকে দিতাম। এসব ছিল ঈদের আনন্দ।

পরীমণি
সবার কাছেই ছোটবেলার ঈদ একটু অন্যরকম। আমারও অন্যরকম ছিল। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়েছি। নানা-নানু আর মামাদের আদরে বড় হয়েছি। তখন সবার কাছেই সেলামি পেতাম। দিনভর বান্ধবীদের সঙ্গে বেড়াতাম। তবে বাবা-মা না থাকার কষ্ট সবসময় অনুভব করতাম। এখন দর্শকদের ভালোবাসা পাই। ঈদে সিনেমা থাকলে এখন বেশি আনন্দ হয়। ঈদে এখন বাড়িতে মেহমান আসে, তাদের আপ্যায়ন করার চেষ্টা করি। কাছের মানুষদের বাসায় আমিও যাই।

মেহজাবীন
আমার বেড়ে ওঠা দেশের বাইরে হওয়ায় দেশে ঈদ উদযাপনের অনেক আনন্দই মিস করতাম। তাই এখন দেশে সবার সঙ্গে ঈদ করতে বেশি ভালো লাগে। ঈদে সেলামি আমার কাছে দারুণ আনন্দের বিষয়। আগে সেলামি নিজে পেতাম, এখন অন্যদের দিতে হয়। ফলে সেলামি নেওয়া এবং দেওয়া উভয়ই উপভোগ করি। সময় পেলে ঈদে নিজের কাজ থাকলে সেগুলো দেখার চেষ্টা করি। এছাড়া অন্যদের কাজও দেখার চেষ্টা করি।

বুবলী
ছোটবেলার একটা স্মৃতি এখনও মনে বেশ উজ্জ্বল হয়ে আছে। আমি বোনদের মধ্যে সবার ছোট। তাই আমার আবদার বেশি ছিল। ঈদের দিন সকাল, দুপুর, রাতে পরার জন্য তিনটা ড্রেস কিনে দিতেই হবে। আর এগুলোর কালার যেন বান্ধবীরা না জানতে পারে। কারণ বান্ধবীদের মধ্যে তখন নতুন ড্রেস নিয়ে খুব প্রতিযোগিতা হতো। একবার ঈদের দিন সকালে অনেকগুলো বান্ধবী আমাদের বাড়িতে আসে। দেখি কী, সকালে যে ড্রেস পরব সেটার রঙ এক বান্ধবীর ড্রেসের সঙ্গে মিলে গেছে। এরপর আমার কান্না শুরু হয়ে গেল। এখন সেসব দিনগুলো মিস করি। এখন ঈদ এক টুকরো অবসর এনে দেয়। সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শকদের সঙ্গে হলে গিয়ে সিনেমা দেখা হয়।

নুসরাত ফারিয়া
আমার বেড়ে ওঠা যৌথ পরিবারে। এমন পরিবারে ঈদ করা সত্যি আনন্দের। ছোটবেলায় আঙ্কেলদের কাছ থেকে জোর করে সেলামি আদায় করতাম। প্রত্যেক ঈদে ভোরে উঠতাম। যে যত আগে উঠতে পারত তার ঝুলিতে সেলামি বেশি পড়ত। কিন্তু এক ঈদে ঘুম থেকে উঠতে দেরি করি। পরে উঠে দেখি—আমার সেলামি সব কাজিনরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে নিয়েছে। এরপর থেকে ঈদের আগের রাতে নির্ঘুম কাটাতাম, ভোর হতেই সেলামির জন্য দৌড় দিতাম। এখন বড় হয়েছি, উল্টো সেলামি দিতে হয়। মনে হয় আমার উন্নতি হয়ে গেছে। কিন্তু সেলামি পেতে কার না ভালো লাগে।

মাসুমা রহমান নাবিলা
আমার শৈশব কেটেছে সৌদি আরবের জেদ্দায়। তাই বলে প্রবাস জীবনে আনন্দ ছিল না—এমন না। আমরা যে ভবনে থাকতাম সেখানে কয়েকটি বাঙালি পরিবার ছিল। এজন্য বন্ধু-বান্ধবের কমতি ছিল না। স্বদেশি বাঙালিরা সবাই একসঙ্গে ঈদ করতাম। সবচেয়ে বেশি মজা হতো চাঁদরাতে। চাঁদ দেখার পর বিল্ডিংয়ের সব ছেলেমেয়েরা হৈচৈ করতাম। এরপর বান্ধবীদের নিয়ে বসে পড়তাম মেহেদিতে হাত রাঙাতে। কাল ঈদ—একথা ভেবে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠতাম। এখন ইচ্ছে হয় শৈশবের সেইসব দিনগুলোতে ফিরে যেতে। এখন স্বামী-সন্তান নিয়ে ব্যস্ততা বেশি।

 

ডিসি/আপ্র/২১/০৩/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

অপারেশন টেবিলে শুয়েও গাইলেন সোনু নিগম
০৯ আগস্ট ২০২৬

অপারেশন টেবিলে শুয়েও গাইলেন সোনু নিগম

মুহূর্তটা বিরল, ব্যতিক্রম। অপারেশন কক্ষ। টেবিলে শুয়ে আছেন রোগী। তার পাশে ডাক্তাররা প্রস্তুত সার্জারি...

হলিউডে বাড়ছে বয়স্ক নারী ও কমবয়সী পুরুষের গল্প
০৯ আগস্ট ২০২৬

হলিউডে বাড়ছে বয়স্ক নারী ও কমবয়সী পুরুষের গল্প

হলিউডের সিনেমা ও টেলিভিশনে সম্পর্কের প্রচলিত চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বয়সে বড় পুরুষ ও ক...

ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যেতে চেয়েছিলেন ডন
০৯ আগস্ট ২০২৬

ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যেতে চেয়েছিলেন ডন

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার চার নম্বর আসামি খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন...

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার
০৯ আগস্ট ২০২৬

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী আশরাফুল হক ডনকে গ্র...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শেখ হাসিনার বক্তব্য সমর্থন করে না ভারত, জানালেন জয়সওয়াল

বাংলাদেশের বর্তমান বৈধ ও গঠিত সরকারের বিষয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য সমর্থন করে না নয়াদিল্লি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমাদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। আমি আবারো সেটিই বলছি। এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।” প্রিয় পাঠক. আপনি কি মনে করেন ভারত সঠিক বলেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে