যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত রয়েছে দাবি করে যুদ্ধাস্ত্রের ঘাটতির খবর অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
পাশাপাশি অস্ত্রের মজুত সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসে জড়িতদের খুঁজে বের করে জেলে ভরা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ আছে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির।
তাছাড়া, চাহিদা অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোও হচ্ছে।”
একাধিক সংবাদমাধ্যম চলতি সপ্তাহে খবর প্রকাশ করেছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় ৫ মাসের যুদ্ধে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট দুই সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের প্রায় সব ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম’ এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ ব্যবহার করে ফেলেছে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ১০ লাখ বা ১ মিলিয়নের বেশি ডলার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-ও দুই সূত্রের বরাতে জানায় যে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের 'থাড' ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপটার মজুদের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং 'প্যাট্রিয়ট' ইন্টারসেপটার প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে।
তাছাড়া, পেন্টাগন গত সোমবার ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের যন্ত্রাংশের উৎপাদন বাড়াতে নর্থরপ গ্রুম্যান ও লকহিড মার্টিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার কথা ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, এই চুক্তির ফলে 'প্যাট্রিয়ট অ্যাডভান্সড ক্যাপাবিলিটি-৩' এবং 'থাড' ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন যথাক্রমে তিন গুণ এবং চার গুণ বাড়বে।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্ল্যান্ট ও কারখানা তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার বা মজুতের ঘাটতি নিয়ে করা প্রতিবেদনগুলোতে যে সব সূত্রের কথা বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই সূত্রগুলোর কড়া সমালোচনা করেছেন।
কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, “এমন দেশদ্রোহী বক্তব্য যারা ‘ফাঁস’ করেছে, তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। বিচারে তাদের জন্য প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড চাইবে।”
গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ কাতারের উপহার দেওয়া এবং ট্রাম্পের ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহৃত বিমান নিয়ে সিক্রেট সার্ভিসের উদ্বেগ প্রকাশ করা চার সাংবাদিককে তলব করে।
তথ্য কে ফাঁস করেছে তা খুঁজে বের করার জন্য তদন্তের অংশ হিসেবে বিচার বিভাগ সাংবাদিকদের ফোনের রেকর্ডও চেয়েছিল। সেই তদন্ত পরে খারিজ করা হয়।
ওদিকে, হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কাম্প ডেভিডে গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছিল। পত্রিকাটি এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল দুই জনের বরাতে খবর প্রকাশ করেছিল।
‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ আরেক খবরে জানিয়েছিল যে, অস্ত্র ঘাটতির কারণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কিছু হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন, যদিও তিনি এর আগে দেশটির বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে এসব দাবি অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগন।
সূত্র: দ্য হিল
ডিসি/আপ্র/০৬/০৮/২০২৬