ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে সরকারি চাকরি না পাওয়ার হতাশায় আত্মহত্যা করেছেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্বর্ণপদকজয়ী এক তরুণ। অন্তত ৫০টি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিয়েও সফল হতে না পেরে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৯ জুলাই) টাইমস অব ইন্ডিয়া সহ ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, কানপুরের গোবিন্দ নগরের গুজাইনি এলাকায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ২৩ বছর বয়সী আনন্দের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিহারে ছিলেন। বাড়ির গৃহকর্মী আনন্দের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশী ও পুলিশকে খবর দিলে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তার হাতে লেখা পাঁচ লাইনের একটি চিরকুটও জব্দ করা হয়েছে।
চিরকুটে আনন্দ লিখেছেন, ‘দুঃখিত বাবা, আমি প্রায় ৫০ বার সরকারি চাকরির চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।’
পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনন্দ ২০২৪ সালে পিএসআইটি নামের একটি বেসরকারি প্রকৌশল কলেজ থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। উত্তর প্রদেশজুড়ে তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। একই বছরের ১৩ আগস্ট কলেজের সমাবর্তনে রাজ্যের গভর্নর আনন্দীবেন প্যাটেলের হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন তিনি।
স্নাতক সম্পন্ন করার পর ভারতের পাওয়ার গ্রিডে শিক্ষানবিশি করেন আনন্দ। এরপর সরকারি চাকরির প্রস্তুতি শুরু করেন। তার বাবা রাজকুমার জানান, রেলওয়ে, এসএসসি, ব্যাংক ও শিক্ষা বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার অংশ নিয়েও চাকরি পাননি আনন্দ। দীর্ঘদিনের এই ব্যর্থতায় তিনি তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিলেন।
ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসি/আপ্র/২০/০৭/২০২৬