মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কাছে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি জীবিত আছেন কি না, তার প্রমাণ চেয়েছেন তাঁর ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি দাবি করেছেন, মায়ের বর্তমান অবস্থান ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের কাছে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই।
দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনে অবস্থানরত কিম অ্যারিস কিয়োদো নিউজকে জানান, মিয়ানমার জান্তার পক্ষ থেকে গত এপ্রিলে সু চির কারাদণ্ড কমিয়ে গৃহবন্দী করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে তাঁর পরিবারের গভীর সন্দেহ রয়েছে।
কিম অ্যারিসের ধারণা, ৮১ বছর বয়সী তাঁর মা এখনো রাজধানী নেপিডোর কারাগারেই বন্দী আছেন। তিনি বলেন, মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরিবার যে তথ্য পাচ্ছে, তা একমাত্র সূত্র-অবস্থা ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, কারাগারের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ বলে তিনি সাবেক এক বন্দীর কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, সু চি হৃদ্রোগ, অস্টিওপোরোসিসসহ বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। পরিবারের সঙ্গে শেষ সরাসরি যোগাযোগ হয়েছিল দুই বছরেরও বেশি সময় আগে, একটি চিঠির মাধ্যমে।
অং সান সু চি ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী এবং তাঁকে আটক করে। তখন তিনি দেশটির নির্বাচিত সরকারের কার্যত নেতৃত্বে ছিলেন। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাঁর বিচার ও সাজা দেওয়া হয়, যাকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন।
সামরিক সরকার চলতি বছরের শুরুতে দাবি করে, সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে। তবে কিম অ্যারিস বলেন, এ দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ তারা পায়নি।
৪৮ বছর বয়সী কিম অ্যারিস লন্ডনে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। ১১ বছর বয়সে তাঁর মা মিয়ানমারে ফিরে যান। পরে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর তিনি মায়ের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় কণ্ঠে পরিণত হন।
নিজেকে আলোচনায় আনতে অনিচ্ছা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে সামনে আসতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, মায়ের পরিস্থিতি তুলে ধরতে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালাচ্ছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৮১ কিলোমিটার স্কেটবোর্ড যাত্রার মতো উদ্যোগ।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং বিশেষভাবে সামরিক বাহিনীর বিমান জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা কমানো যায়।
কিম অ্যারিসের মতে, তাঁর মাকে কোথায় রাখা হয়েছে-তা না জানাটাই এখন পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩০/৬/২০২৬