যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইন-কে ঘিরে নতুন এক তথ্য সামনে এসেছে। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, তার ব্যক্তিগত দ্বীপে নির্মিত একটি রহস্যময় স্থাপনায় ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফ-এর গিলাফ (কিসওয়া)-এর অংশ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে নিজ বাসভবনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম-এর সঙ্গে কাবার গিলাফের সূচিকর্ম করা কাপড় পর্যবেক্ষণ করছেন এপস্টেইন। এসব কাপড়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত খচিত ছিল এবং সেগুলো আগে কাবার আবরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
নথিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ক্যারিবীয় সাগরের লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপ-এ অবস্থিত তার ব্যক্তিগত দ্বীপে একটি নীল-সাদা ডোরাকাটা ও সোনালি গম্বুজযুক্ত স্থাপনা নির্মাণ করেন এপস্টেইন, যেটিকে তিনি নিজেই ‘মসজিদ’ বলে উল্লেখ করতেন। তবে এটি প্রকৃত ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে এই ভবনটি নিয়ে নানা জল্পনা ছিল—কেউ একে সংগীতকক্ষ, কেউ প্যাভিলিয়ন বা গোপন উপাসনালয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ইমেইল ও যোগাযোগের নথি বিশ্লেষণে এতে ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
নথিতে আরো দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে এপস্টেইন এসব নিদর্শন সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে তার যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কাবার গিলাফ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। প্রতি বছর এটি নতুন করে তৈরি করা হয় এবং পুরোনো গিলাফের অংশ বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ বা বিতরণ করা হয়।
২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়, যা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
এসি/আপ্র/৩০/০৪/২০২৬