গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

মেনু

জাপানে মেয়রের মাতৃত্বকালীন ছুটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৬ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৩ এএম ২০২৬
জাপানে মেয়রের মাতৃত্বকালীন ছুটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক
ছবি

ইয়াওয়াতা শহরের মেয়র শোকো কাওয়াতা -ছবি বিবিসির এক্স থেকে নেওয়া

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়াওয়াতা শহরের মেয়র শোকো কাওয়াতার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি ধারণা করেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে হয়তো সামান্য প্রতিক্রিয়া হবে, তবে বাস্তবে তা জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে রূপ নেয়।

৩৫ বছর বয়সী এই মেয়র সম্প্রতি ঘোষণা দেন যে তিনি সন্তান জন্মের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময় দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন। জাপানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির কোনো সুস্পষ্ট আইন না থাকায় তিনি আনুষ্ঠানিক ছুটি না নিয়ে দায়িত্ব সাময়িকভাবে উপমেয়রের হাতে অর্পণ করেছেন।

তিনি জানান, সম্ভাব্য প্রসবের সময়ের দুই মাস আগে এবং পরে আরো দুই মাস তিনি দায়িত্ব থেকে দূরে থাকবেন। এর মাধ্যমে জাপানের ইতিহাসে প্রথম কোনো নির্বাচিত নারী মেয়র হিসেবে মাতৃত্বকালীন ছুটির নজির স্থাপনের পথে এগোচ্ছেন তিনি।

ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সন্তান জন্মদান ও লালন-পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং একজন জনপ্রতিনিধির জন্যও তা স্বাভাবিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাদের মতে, এ ঘটনা নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে উৎসাহ দেবে এবং কর্মজীবন ও পরিবার একসঙ্গে সামলানোর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।

অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। কেউ কেউ বলেন, দায়িত্ব নিতে হলে আগে থেকেই ব্যক্তিগত পরিকল্পনা করা উচিত ছিল, আবার অনেকে মেয়র পদে থাকাকালে দীর্ঘ ছুটি নিলে পদত্যাগের দাবি তোলেন।

মেয়র কাওয়াতা এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তার মতে জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে শুধু কাজেই নিবেদিত থাকতে হবে-এমন ধারণা নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে বড় বাধা তৈরি করছে। তিনি বলেন, সমাজকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে নারীরা পরিবার ও দায়িত্ব-দুটিই সমানভাবে সামলাতে পারবেন।

ইয়াওয়াতা শহরের এই মেয়র কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ৩৩ বছর বয়সে জাপানের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে জাপানে পৌরসভার প্রধানদের মধ্যে নারীর সংখ্যা অত্যন্ত কম।

স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, মেয়রের অনুপস্থিতিতে উপমেয়র প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়মিতভাবে তার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

জাপানে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এ ধরনের ছুটি নিয়ে স্পষ্ট কাঠামো না থাকায় এই ঘটনা নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভবিষ্যতে নীতিগত পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে। সূত্র: বিবিসি
সানা/আপ্র/৩/৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রিন্সেস ডায়ানার অজানা গল্প জানাতে ভাইয়ের নতুন বই
১৯ আগস্ট ২০২৬

প্রিন্সেস ডায়ানার অজানা গল্প জানাতে ভাইয়ের নতুন বই

প্রয়াত ব্রিটিশ রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন, ব্যক্তিত্ব ও মৃত্যুকে ভাইয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরে ন...

আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, হরমুজের উত্তেজনা বাড়ছে
১৯ আগস্ট ২০২৬

আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, হরমুজের উত্তেজনা বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ইরান থেকে দুটি ব্যা...

কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশি নিহত
১৯ আগস্ট ২০২৬

কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশি নিহত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়...

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো আশাবাদী দিল্লি
১৯ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো আশাবাদী দিল্লি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো আশাবাদী নয়াদিল্লি। তবে সফরের নির্দিষ্ট তার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা কতটা, প্রাপ্তি কতখানি

আজ ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নে সরকার যেমন বেশ কিছু অর্জনের কথা বলছে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের প্রশ্নও সামনে এসেছে। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সব কর্মসূচিই পূরণ হয়েছে-কোথাও ৯০, কোথাও ৯৫ এবং কোথাও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রিয় পাঠক, সরকার ভালো করছে নাকি মন্দ করছে? হ্যাঁ বা না জানান।

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে