আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। এ ঘটনায় আরো প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, সোমবার(১৬ মার্চ) রাত প্রায় ৯টার দিকে কাবুলের নবম পুলিশ জেলার একটি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন হাসপাতালে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বহু রোগী সেখানে অবস্থান করছিলেন।
তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার শয্যার ওই হাসপাতালটির একটি বড় অংশ হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো মানুষ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের সামরিক শাসনব্যবস্থা আবারো আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। আমরা এই অপরাধের তীব্র নিন্দা জানাই এবং একে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করি।
আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, কাবুলের নবম পুলিশ জেলায় অবস্থিত মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তবে আফগানিস্তানের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ বলছে, কাবুলের কোনো হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় নাঙ্গারহার প্রদেশে কেবল সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ‘নির্ভুল বিমান হামলা’ চালিয়েছে।
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এটিই সবচেয়ে তীব্র উত্তেজনার একটি।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, টোলো নিউজ
এসি/আপ্র/১৭/৩/২০২৬