চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে স্বামীর ওপর অভিমান করে এক মাস বয়সী কন্যাশিশুকে দত্তক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। শিশুটির মৃত্যুর মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলেও দাদির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে জেলার হাটহাজারী উপজেলার বড় দিঘির পাড় এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে বোয়ালখালী থানা পুলিশ। পরে শিশুটিকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব চরণদ্বীপ গ্রামের অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ রাকিব ও রোখসানা বেগম দম্পতির মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে রাগ করে রোখসানা দেড় মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীর প্রতি ক্ষোভ থেকে রোখসানা পরে শিশুটিকে এক নিকটাত্মীয় নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দত্তক দিয়ে দেন। এ জন্য তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এরপর স্বামীকে ফোন করে জানান, তাদের মেয়ে মারা গেছে এবং তাকে দাফন করা হয়েছে।
তবে স্ত্রীর দেওয়া তথ্য বিশ্বাস করতে পারেননি রাকিব। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তিনি পুলিশকে জানান। পরে তদন্ত করে পুলিশ শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, রাকিব ও রোখসানার বিয়ে হয় এক বছর দুই মাস আগে। গত ২০ জুন তাদের প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। গত ২৭ জুলাই রোখসানা তার শাশুড়িকে ফোন করে শিশুটির মৃত্যুর খবর জানান। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। রোখসানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, স্বামীর সঙ্গে রাগ করে বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর খালার বাড়িতে ছিলেন। পরে জেদের বশে খালার দেবরের কাছে শিশুটিকে দত্তক দিয়ে দেন এবং আবার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।
তিনি বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২/৮/২০২৬