বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা, বসতঘর ও হাওলি বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভান্ডারখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পক্ষ।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডারখোলা গ্রামের হাসেম মল্লিকের ছেলে আজিজুল মল্লিকের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আশরাফ আলী মল্লিকের ছেলে টিপু মল্লিক ও টুলু মল্লিকের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে বাগেরহাট জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি আপিল নম্বর ৬৫/২০২৬ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ওই জমি সংক্রান্ত পূর্বের রায় ও ডিগ্রির ওপর আদালত ২১ দিনের স্থগিতাদেশ দিয়ে উভয় পক্ষকে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আদালতের ওই আদেশ অমান্য করে শনিবার সকালে টিপু মল্লিক ও টুলু মল্লিকের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা বসতঘরের অংশ ও হাওলি বেড়াসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে কচুয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ উভয় পক্ষকে আইন নিজের হাতে না তুলে আদালতের নির্দেশনা মেনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানায়।
ভুক্তভোগী আজিজুল মল্লিক বলেন, “আদালতের সুস্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকার পরও প্রতিপক্ষ বেআইনিভাবে সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে পুলিশকে খবর দিয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে টিপু মল্লিক মুঠোফোনে বলেন, তার বিরুদ্ধে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
কচুয়া থানার উপপরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে ঘরবাড়ি ভাঙচুর বা জমি দখলের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি। তবে বাড়ির হাওলি বেড়া ভাঙচুরের বিষয়টি দেখা গেছে।
সানা/আপ্র/২/৮/২০২৬