মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতের প্রধান বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর দেশটি সতর্কতামূলকভাবে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে বহু প্রাণহানি এবং তেহরানের তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে।
কুয়েত বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন আঘাত
তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা
লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে নিহত ৪১
তেহরানের তেল শোধনাগারে আগুন
ট্রাম্পকে কাতারের আমিরের সতর্কবার্তা
দেশটির সরকার জানিয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ভবনে ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। এ পরিস্থিতিতে কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের কাছে তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে অন্তত ১৫টি ড্রোন প্রতিহত করার কথাও জানায় তারা।
এদিকে লেবাননে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থল ও আকাশপথে পরিচালিত এ অভিযানে অন্তত ৪১ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে তিনজন সেনাসদস্যও রয়েছেন। একই সময়ে বৈরুতের একটি হোটেলে ইসরায়েলি হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানে বেশ কয়েকটি জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর সেখানে ভয়াবহ আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছেন, দেশের এক ইঞ্চি জমিও শত্রুর দখলে যেতে দেওয়া হবে না। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, যারা ইরানের ওপর হামলা চালাবে, তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, দেশটি বর্তমান মাত্রার যুদ্ধ অন্তত ছয় মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের প্রয়োজন নেই।
এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ফোনালাপে কাতারের আমির চলমান সঙ্কট নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত পরিবর্তনশীল এ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর গভীরভাবে পড়তে পারে।
সানা/আপ্র/৮/৩/২০২৬