গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

মেনু

রয়টার্স প্রতিবেদন

ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৬ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৯:১৭ এএম ২০২৬
ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান
ছবি

ছবি সংগৃহীত

লন্ডনে প্রায় দুই দশক ধরে নির্বাসনে থেকে ফিরে আসার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।নানা কারনেই বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন আগের সব নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক হাসিনার পতন ঘটে। প্রায় ১৫ বছর ধরে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। গত কয়েকবারের সাধারণ নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগেরও সুযোগ পায়নি।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের এই আলোচিত নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়লাভ করতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। যদি জনমত জরিপগুলো সত্য হয় তবে বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী মৃদুভাষী এই নেতার ভাগ্যের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাবে। তিনি ২০০৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তার চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। সে সময়ই তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে পা রাখেন তারেক রহমান। সে সময় বীরের মতো তাকে স্বাগত জানানো হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত সময় পার করেছেন তিনি। অপরদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা এখনো দিল্লিতেই আছেন। তারেক রহমানের মা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি এবং শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শেখ হাসিনা ছিলেন নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ মিত্র। অপরদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশকে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল না করে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ, খেলনা এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্পের প্রচারের মাধ্যমে পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধে প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে দুই মেয়াদে অর্থাৎ ১০ বছরের সময়কাল প্রবর্তনের কথা বলেছেন। তারেক রহমান তার স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় অবতরণের পর সবকিছু এত দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে যে, তিনি বলেছেন তিনি আসলে সেভাবে কোনো কিছু ভাবার সময় পাননি। নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমি জানি না আমরা ঢাকায় অবতরণের পর থেকে প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটে গেছে। এ সময় তিনি জানান, তার মেয়ে জাইমা রহমান বাবার পক্ষে সমর্থন আদায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
দৃশ্যপট পরিবর্তন: তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে টেক্সটাইল এবং কৃষি পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন। দেশে ফিরে আসার পর থেকেই তারেক রহমান নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ও মামলা থাকলেও এগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।
রয়টার্সকে তারেক রহমান বলেন, প্রতিশোধ কারো জন্য কী বয়ে আনে? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ থেকে পালাতে হয়। এতে ভালো কিছু আসে না। এই মুহূর্তে দেশে আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা। শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান দুর্নীতির মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন এবং বেশ কয়েকটি মামলায় তার অনুপস্থিতিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার এক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার জন্য তাকে ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই হামলায় অনেকেই নিহত ও আহত হন। তবে তিনি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সব মামলা থেকেই খালাস পেয়েছেন তারেক রহমান।

লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপনের সময় তিনি তার দলের একের পর এক দুর্দশা দেখেছেন। তার দলের সিনিয়র নেতাদের জেলে পাঠানো হয়েছে, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশে ফিরে আসার পর তারেক রহমান উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন স্টাইল গ্রহণ করেছেন। তিনি আক্রমণাত্মক বক্তব্য এড়িয়ে গেছেন এবং সংযম ও পুনর্মিলনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা’ পুনরুদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলেছেন। বিএনপির ভেতরে এবং দলের ওপর তারেক রহমানের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা বলছেন, তিনি প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল এবং জোট আলোচনা সবকিছু মিলিয়ে একসময় দূর থেকে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা এখন সরাসরি তদারকি করছেন। তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং টিকিয়ে রাখাই তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র অনুশীলনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ এবং পুনর্গঠন করতে পারি। যদি আমরা গণতন্ত্র অনুশীলন করি, তাহলে আমরা জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারি। তাই আমরা গণতন্ত্র অনুশীলন করতে চাই, আমরা আমাদের দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।

সানা/আপ্র/১০/২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

শর্ত পূরণে ব্যর্থ, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
০৩ জুন ২০২৬

শর্ত পূরণে ব্যর্থ, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নতুন করে শুল...

হাদি হত্যার আসামিদের গ্রেফতার নিয়ে ‘চুপ থাকতে’ বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০৩ জুন ২০২৬

হাদি হত্যার আসামিদের গ্রেফতার নিয়ে ‘চুপ থাকতে’ বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এল নিনোর আশঙ্কা, আবহাওয়ার সতর্কবার্তা
০৩ জুন ২০২৬

এল নিনোর আশঙ্কা, আবহাওয়ার সতর্কবার্তা

বিশ্বজুড়ে খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে আবারো সক্রিয় হওয়ার পথে জলবায়ুর প্রাকৃতি...

গরু আমাদের মা, গোমাতা আমাদের রাষ্ট্রমাতা: যোগী আদিত্যনাথ
০৩ জুন ২০২৬

গরু আমাদের মা, গোমাতা আমাদের রাষ্ট্রমাতা: যোগী আদিত্যনাথ

গরু নিয়ে আরো একবার মুসলিমদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সম...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

বর্তমান সরকারের চারমাস পূর্ণ না হতেই হঠাৎ মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ালেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক এই পদত্যাগের পেছনে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি কি মনে করেন তিনি সত্যিই অসুস্থতার কারণে সরে গেলেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে