শিশুরা যে বয়সে বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করে, সেই বয়সেই যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক হয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের শিশু ফিনিক্স জিসেল হিকস। মাত্র ৫ বছর ৩৩৭ দিন বয়সে ২০০ ঘণ্টার যোগব্যায়াম প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে শেষ করে সে যোগব্যায়ামের সবচেয়ে কম বয়সী নারী প্রশিক্ষক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছে।
সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে ফিনিক্সকে নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফিনিক্সের যোগব্যায়ামের সঙ্গে পরিচয় অবশ্য আরো অনেক আগে। মাত্র তিন মাস বয়সে মা সিডনি হিকসের কোলে চড়ে যোগব্যায়ামের ক্লাসে যাওয়া শুরু করে সে। সেই ক্লাসের নাম ছিল ‘মামি অ্যান্ড মি’। মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগব্যায়াম করতে করতে ধীরে ধীরে এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ফিনিক্সের। পরে সেই আগ্রহই তাকে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের দিকে নিয়ে যায়।
ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ২০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে ফিনিক্স। প্রশিক্ষণের সময় তাকে শারীরবিদ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াশোনা করতে হয়েছে, লিখিত কাজ করতে হয়েছে এবং একাধিক ধাপের মূল্যায়ন পার হতে হয়েছে।
ফিনিক্সের জন্য কাজটি সহজ ছিল না। প্রশিক্ষণে সে ছিল একমাত্র শিশু; অন্য সবাই ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক হওয়ার সনদ অর্জন কঠিন বলে বিবেচিত হয়। সেই জায়গায় এত কম বয়সে কোর্সটি সফলভাবে শেষ করে নজির গড়ে ফিনিক্স।
বর্তমানে হিউস্টনে নিজের মায়ের সঙ্গে যোগব্যায়াম শেখায় সে। শুধু শিশু নয়, প্রাপ্তবয়স্কদেরও যোগব্যায়াম শেখায় খুদে এই প্রশিক্ষক।
ফিনিক্স বলে, ‘আমি মায়ের সঙ্গে ক্লাস নিতে ভালোবাসি। তিনিই আমাকে যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক হতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাই আমরা যখন একসঙ্গে শেখাতে পারি, তখন মজা লাগে।’
প্রশিক্ষণের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে ফিনিক্স জানায়, ‘আমি তখন ক্লাসের একমাত্র শিশু। বাকিরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। আমাকে বহু পড়াশোনা করতে হয়েছে। শারীরবিদ্যা সম্পর্কে বিশদ জানতে হয়েছে। লিখতেও হয়েছে। ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের পর্যায়গুলো পার হতে হয়েছে।’
কঠোর পরিশ্রমের পরই পছন্দের কাজটি করার সুযোগ পেয়েছে জানিয়ে সে বলে, ‘যখন যোগব্যায়াম শেখাই, তখন আমি সম্মানিত ও গর্ববোধ করি।’
মেয়ের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত সিডনি হিকস। তাঁর মতে, ফিনিক্স শুধু শক্তিশালী শিক্ষণশৈলীর মাধ্যমে যোগব্যায়াম শেখাচ্ছে না, বরং এর চর্চাকেও এগিয়ে নিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, গভীরভাবে নিশ্বাস নেওয়া, নিজের ইচ্ছা পূরণ করা এবং বিশ্বকে বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৮/৯/২০২৬