সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভিক্ষাবৃত্তি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী, ভিক্ষা করতে গিয়ে আটক হলে কারাদণ্ডের পাশাপাশি নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে।
কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও দেশটিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা কয়েকটি দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের একশ্রেণির নাগরিকও এ কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আমিরাত সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা বন্ধ ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে অনিয়ন্ত্রিত ভিক্ষাবৃত্তিও অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি অংশের এমন কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ প্রবাসীরা। এমনকি ছুটিতে দেশে যাওয়ার পর কারও কারও ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িতদের অনেকেই বৈধ আবাসন সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতে বসবাস করছেন। সাহায্যের আবেদনকে কাজে লাগিয়ে তারা ভিক্ষাবৃত্তিকে আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কেউ মায়ের চিকিৎসা, কেউ বোনের বিয়ে, আবার কেউ স্ত্রী-সন্তানের অসুস্থতার কথা বলে মানুষের সহানুভূতি নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া একশ্রেণির ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদরাসা বা প্রতিষ্ঠানের নামে চাঁদা ও সাহায্য সংগ্রহ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ বাংলাদেশি প্রবাসীরা। তাদের অভিযোগ, আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনিক আলোচনা হলেও আইন লঙ্ঘনকারী এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
প্রবাসীদের মতে, গুটিকয়েক মানুষের কর্মকাণ্ডের দায় পুরো বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ওপর পড়ছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীও ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এসি/আপ্র/০৩/০৯/২০২৬