আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, সে জন্য সরকার সমব্যথী এবং দুঃখিত। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি জানান, দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি গত ২১ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ১৫ আগস্ট সেটি মেরামত করা হয়। তবে এরপরও সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। কার্গো আমদানির সময়সূচি নতুন করে নির্ধারণ করতে হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহব্যবস্থার প্রায় ৮৮ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১২ শতাংশ ঘাটতিও দ্রুত পূরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ থেকে দৈনিক গড়ে ৭০০ থেকে ৭৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দুটি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বাড়বে সরবরাহ
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিস্থিতি তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমানে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না।
তিনি জানান, রামপাল কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। তবে সমুদ্র কিছুটা উত্তাল থাকায় লাইটারেজের মাধ্যমে কয়লা মোংলা বন্দরে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমবে বলেও আশা করেন প্রতিমন্ত্রী।
কমেছে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ
আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে অর্ধেকে নেমেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাদের কয়লা সরবরাহেও সমস্যা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দিনের বেলায় আদানি থেকে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার পর প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেত।
তবে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
বেশি দামে এলএনজি কিনছে সরকার
সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশি দামে এলএনজি কিনতে বাধ্য হচ্ছে বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি চুক্তির আওতায় থাকা সরবরাহকারীদের অনেকেই ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করায় সরকারকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। আর স্পট মার্কেটে সাধারণত দাম বেশি থাকে।
মানুষের দুর্ভোগ ও শিল্পকারখানার সংকট বিবেচনায় নিয়ে বেশি দাম দিয়েও সরকার এলএনজি সংগ্রহ করছে বলে জানান তিনি। সংকট যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সে জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
এসি/আপ্র/০৩/০৯/২০২৬