রান্নায় ঝাঁঝালো স্বাদ ও বিশেষ ঘ্রাণ আনতে রসুনের ব্যবহার বহু পুরোনো। মাছ-মাংস থেকে শুরু করে নানা ধরনের তরকারি প্রায় সব ধরনের রান্নাতেই এর ব্যবহার দেখা যায়। তবে খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি রসুনের কিছু উপাদান হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে; বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এবং রক্ত জমাট বাঁধার মতো স্ট্রোকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির ক্ষেত্রে রসুনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে।
আয়ুর্বেদে রসুন ‘রসোনা’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখা ও হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য এটি ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে রসুনের রক্ত জমাটবাঁধার প্রক্রিয়ায় প্রভাব থাকতে পারে। ফলে যারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করছেন, তাদের নিয়মিত কাঁচা রসুন খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রসুনে থাকা যে উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ: রসুন কেটে, কুচি করে বা থেঁতো করলে এতে ‘অ্যালিসিন’ নামে একটি সালফারযুক্ত যৌগ তৈরি হয়। রসুনের পরিচিত তীব্র গন্ধের পেছনেও এই যৌগের ভূমিকা রয়েছে। শরীরে অ্যালিসিনসহ রসুনের বিভিন্ন সক্রিয় উপাদান রক্তনালি ও রক্ত সঞ্চালনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্ট্রোকের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো উচ্চ রক্তচাপ। দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে ধমনির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং ধমনির ক্ষতির আশঙ্কা বাড়তে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের নির্যাস সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক দুই ধরনের রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে রক্তনালির পেশি কিছুটা শিথিল করে রক্ত চলাচল সহজ করতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
রক্ত জমাটবাঁধার ক্ষেত্রে ভূমিকা: ইস্কেমিক স্ট্রোক তখনই ঘটে, যখন মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছে দেওয়া কোনো ধমনি রক্ত জমাটের কারণে আটকে যায়। গবেষণায় রসুনের এমন কিছু প্রভাবের কথা বলা হয়েছে- যা রক্তের প্লেটলেট অতিরিক্তভাবে একত্রিত হয়ে জমাট বাঁধার প্রবণতা কমাতে পারে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে ভুল ধারণা করা ঠিক নয়। রসুন রক্ত পাতলা করার ওষুধের বিকল্প নয় এবং স্ট্রোকের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের জন্য শুধু রসুনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
কমাতে পারে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল: রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে ধমনির ভেতরে চর্বি ও প্লাক জমতে শুরু করতে পারে। এর ফলে ধমনি সরু হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরির আশঙ্কা বাড়ে। কিছু গবেষণায় নিয়মিত রসুন খাওয়ার সঙ্গে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ধমনিতে প্লাক জমার প্রক্রিয়াও কিছতা ধীর হতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত রয়েছে।
কীভাবে খেলে অ্যালিসিন পাওয়া যেতে পারে: রসুনের সক্রিয় উপাদান অ্যালিসিন তৈরির জন্য একটি কোয়া প্রথমে থেঁতো বা কুচি করে কয়েক মিনিট রেখে দেওয়া যেতে পারে। সাধারণত ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পর খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রসুন কাটার পর এই সময়টুকু দিলে অ্যালিসিন তৈরির প্রক্রিয়া ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ পায়। অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে অ্যালিসিন তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই কাঁচা বা হালকা প্রক্রিয়াজাত রসুনে সক্রিয় যৌগ পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
শুধু নিয়মিত রসুন খেলেই স্ট্রোক হবে না- এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই। রসুনকে কোনোভাবেই চিকিৎসা বা নির্ধারিত ওষুধের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়; বিশেষ করে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র: অনলাইন
কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬