৪৯ বছর বয়সেও মঞ্চে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নাচ ও গান করে দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছেন শাকিরা। বিশ্বজুড়ে কনসার্ট ও দীর্ঘ সফরের ব্যস্ততার মধ্যেও কীভাবে তিনি নিজেকে এতটা ফিট রাখেন, সেই রহস্যের কিছুটা উন্মোচন করেছেন তার দীর্ঘদিনের ফিটনেস প্রশিক্ষক অ্যানা কাইজার।
নাচই তার প্রধান ব্যায়াম
শাকিরার ফিটনেস রুটিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নাচ। তবে এটি শুধু পারফরম্যান্সের জন্য নয়, বরং তার প্রধান কার্ডিও ব্যায়ামও। নিয়মিত ড্যান্স-কার্ডিও অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি হৃদ্যন্ত্রের কর্মক্ষমতা, সহনশীলতা ও শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখেন।
মজার বিষয় হলো, অনুশীলনের সময় শেখা কিছু নাচের স্টেপ পরবর্তীতে তার মঞ্চ পরিবেশনাতেও ব্যবহার করা হয়।
ভারী ওজন নয়, কৌশলী অনুশীলন
অনেকের ধারণা, ফিট থাকতে হলে ভারী ওজন তুলতেই হবে। কিন্তু শাকিরার পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। তিনি সাধারণত হালকা ওজন ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যায়াম বারবার করেন। এতে পেশি টানটান থাকে, আবার শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপও পড়ে না।
তার বেশিরভাগ অনুশীলনই ‘লো-ইমপ্যাক্ট’ ধরনের, ফলে হাঁটু, কোমর ও গোড়ালির জয়েন্টে আঘাতের ঝুঁকি কম থাকে।
পেটের পেশির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব
শাকিরার শরীরচর্চার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে কোর বা পেটের পেশির ব্যায়াম। সিট-আপের বিভিন্ন ধরন, পিলাটেসভিত্তিক অনুশীলন এবং কোর-স্ট্রেন্থ ট্রেনিং তার নিয়মিত রুটিনের অংশ।
এসব ব্যায়াম শরীরের ভারসাম্য, নমনীয়তা ও শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
ব্যায়ামের পর প্রোটিন গ্রহণ
প্রশিক্ষকের তথ্য অনুযায়ী, শরীরচর্চা শেষ হওয়ার ৪৫ মিনিটের মধ্যেই শাকিরা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের চেষ্টা করেন। এতে পেশির পুনর্গঠন সহজ হয় এবং শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায়।
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা
তার খাদ্যাভ্যাসও বেশ নিয়ন্ত্রিত ও সুষম। সাধারণত—
* সকালের নাশতায় অমলেট ও শাকসবজি
* দুপুরে প্রোটিনসমৃদ্ধ সালাদ
* রাতে ভাপানো সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
* দিনের বিভিন্ন সময়ে স্যুপ, সবজি ও প্রোটিন শেক
এ ছাড়া শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে তিনি প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পরপর হালকা কিছু খেয়ে থাকেন।
ফিটনেসের আসল রহস্য
শাকিরার জীবনযাপন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার ফিট থাকার পেছনে কোনো জাদুকরী পদ্ধতি নেই। বরং নিয়মিত ব্যায়াম, সক্রিয় জীবনধারা, পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলাই তাকে বছরের পর বছর সুস্থ ও কর্মক্ষম রেখেছে।
তার ফিটনেস দর্শনের মূল বার্তা হলো—সুস্থ শরীর গড়তে শর্টকাট নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা।
এসি/আপ্র/০৮/০৬/২০২৬