অহিংস বিশ্ব বিনির্মাণের প্রত্যয়ে ভাবসংগীতের মাধ্যমে মানবতা, সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হওয়া কবির-লালন ভাবসংগীত উৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব দেশের ছয়টি বিভাগ ঘুরে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গলের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ। এতে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ।
সমাপনী আলোচনায় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, তারেক রহমানের সরকার সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি সংরক্ষণেও কাজ করছে। কবির-লালন ভাবসংগীত উৎসব তারই একটি উদাহরণ। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেশব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শেষ হচ্ছে না, বরং এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সত্য ইতিহাসবোধের গভীর শিক্ষা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে নৈরাজ্য ও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা রুখতে সাংস্কৃতিক জাগরণ প্রয়োজন। কবির ও লালন ফকিরের কালজয়ী ভাবাদর্শ অনুধাবন ও অনুসরণের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ বলেন, কবির ও লালনের জীবন ও বাণী থেকে মানবতার শিক্ষা পাওয়া যায়। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানবতা, সহানুভূতি ও আধ্যাত্মিক চিন্তার এক মহামিলন ঘটেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবির-লালন গবেষক আবেদল মান্নান। তিনি বলেন, কবির ও লালন ফকিরের কালজয়ী দর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা এবং জীবনবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁদের বাণী ও ভাবাদর্শের চর্চার মাধ্যমে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে আসা কবির-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা ভাবসংগীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চা-বাগানে কর্মরত শ্রমজীবী কবিরপন্থি ও রবিদাস সম্প্রদায়ের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
উল্লেখ্য, লালন বিশ্বসংঘের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে এ উৎসবের যাত্রা শুরু হয়। বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে উৎসবের আয়োজন করা হয়। ছয় বিভাগ পরিভ্রমণ শেষে শুক্রবার শ্রীমঙ্গলের সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেশব্যাপী এ সাংস্কৃতিক উৎসব।
সানা/আপ্র/৩১/১০/২০২৬