রাজধানীর কলাবাগান থানার হাতিরপুল এলাকা থেকে আবু হাসান নামে আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ বাসার একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি। অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবু হাসানের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার বর্ধমানপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম ইসলাম উদ্দিন। গত এক মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাতিরপুল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল সে। তিন ভাইবোনের মধ্যে হাসান ছিল দ্বিতীয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শিশুটির মামা রায়হান মিয়া জানান, হাসান ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। সে ছিল চঞ্চল স্বভাবের। তাকে ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হলেও সেখানে থাকতে চাইত না। পরে গ্রামের বাড়িতে আরেকটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হলে সে কান্নাকাটি শুরু করে। ছেলের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বাবা এক মাস আগে তাকে আবার ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গেই হাতিরপুলের বাসায় থাকছিল হাসান।
রায়হান মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যার কিছু আগে বাসার একটি কক্ষ ফাঁকা ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানালা দিয়ে তালাবদ্ধ কক্ষের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় হাসানকে ঝুলতে দেখেন।
তিনি আরো জানান, বিকেলে হাসান মাঠে খেলতে গিয়েছিল। সেখানে সহপাঠীদের সঙ্গে তার মারামারি হয়। বাসায় ফেরার পর এ ঘটনা নিয়ে মা ও বোন তাকে বকাঝকা করেন এবং পুলিশের ভয় দেখান। এ কারণে অভিমান করে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন মামা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
সানা/আপ্র/৩১/১০/২০২৬