গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

মেনু

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসী বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জবাবদিহির নতুন দিগন্ত উন্মোচন

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৩:২০ পিএম, ১৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০৬:১৮ এএম ২০২৬
জবাবদিহির নতুন দিগন্ত উন্মোচন
ছবি

ফাইল ছবি

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা শুধু একটি প্রশাসনিক কাঠামো নয়; এটি মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এই খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ সাধারণ খাতের তুলনায় বহুগুণ বেশি উদ্বেগের জন্ম দেয়। এমন বাস্তবতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, কোটি কোটি টাকার প্রভাব ও লেনদেনের চেষ্টা সত্ত্বেও আদ্ দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এই সহজ-সরল অথচ তাৎপর্যপূর্ণ স্বীকারোক্তি দেশের স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের এক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, স্বাস্থ্যসেবার মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রেও বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি বিদ্যমান ছিল কিংবা এখনো আছে। এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই সাধারণ ঘটনা নয়। বরং এটি এমন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে মানুষের জীবন ও চিকিৎসাসেবাকে ঘিরেও অবৈধ সুবিধা অর্জনের অপচেষ্টা চলে। সেই কারণে মন্ত্রীর এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রশংসার দাবিদার। কারণ সমস্যাকে আড়াল না করে প্রকাশ্যে স্বীকার করাই সংস্কারের প্রথম শর্ত।

আদ্ দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পেছনে যে কারণগুলো সামনে এসেছে, বিশেষত নবজাতকের মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রেক্ষাপটে তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ, তা স্বাস্থ্যসেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যত বড় বা প্রভাবশালীই হোক না কেন, যদি তার কার্যক্রমে গুরুতর ত্রুটি, অবহেলা কিংবা নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইনের প্রয়োগ হতে হবে সমান ও নিরপেক্ষ। এ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারিত হয়।

তবে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-সরকার কি এটিকে একটি নীতিগত অবস্থানে রূপ দিতে পারবে? যদি সত্যিই কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে, তবে সেই মানসিকতা স্বাস্থ্যখাতের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হতে হবে। লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, তদারকি, চিকিৎসার মান নিয়ন্ত্রণ, জনবল নিয়োগ এবং ক্রয়প্রক্রিয়াসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে প্রয়োজন স্বাধীন ও কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা। কোনো দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক তদারকি জোরদার করতে হবে। রোগীর অধিকার, চিকিৎসা নিরাপত্তা এবং সেবার মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে তাই কেবল একটি রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ঘোষিত অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। জনগণ এখন দেখতে চায়, এই বার্তা কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে কি না, নাকি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে শুদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। কারণ মানুষের জীবন নিয়ে কোনো আপস নয়-এই নীতিই হতে হবে স্বাস্থ্যব্যবস্থার চূড়ান্ত ভিত্তি।
সানা/আপ্র/১৫/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

চিকিৎসা ও শিক্ষককল্যাণে রাষ্ট্রের মানবিক অঙ্গীকার
১৭ আগস্ট ২০২৬

চিকিৎসা ও শিক্ষককল্যাণে রাষ্ট্রের মানবিক অঙ্গীকার

রাষ্ট্রের সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড শুধু উন্নত অবকাঠামো নির্মাণে নয়; মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ, সহজ, মর...

জঙ্গিবাদের বদলে যাওয়া ছকে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত
১৬ আগস্ট ২০২৬

জঙ্গিবাদের বদলে যাওয়া ছকে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত

বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা সন্ত্রাসী সেল ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনঅসন্তোষ, ঝুঁকিতে জাতীয় স্থিতিশীলতা
১৫ আগস্ট ২০২৬

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনঅসন্তোষ, ঝুঁকিতে জাতীয় স্থিতিশীলতা

একটি দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থার দুর্বলতা কখনোই কেবল কারিগরি সংকট নয়। এর অভিঘাত সরাসরি পড়ে মান...

সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক মর্যাদা
১৪ আগস্ট ২০২৬

সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক মর্যাদা

আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা কতটা, প্রাপ্তি কতখানি

আজ ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নে সরকার যেমন বেশ কিছু অর্জনের কথা বলছে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের প্রশ্নও সামনে এসেছে। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সব কর্মসূচিই পূরণ হয়েছে-কোথাও ৯০, কোথাও ৯৫ এবং কোথাও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রিয় পাঠক, সরকার ভালো করছে নাকি মন্দ করছে? হ্যাঁ বা না জানান।

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে