খুলনায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। আলোচনা সভা, শ্রদ্ধা নিবেদন, রক্তদান, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, দোয়া, প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান।
দিবসটি উপলক্ষে নগর ভবনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনের শহিদ শেখ মো. সাকিব রায়হানের কবর জিয়ারত এবং শিববাড়ি মোড়ের জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো জাতীয় পতাকা, জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ আলোকচিত্র, প্যানা ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় শহিদ শেখ মো. সাকিব রায়হানের স্মৃতিচারণ করেন তাঁর পিতা মো. আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো. মনিরুজ্জামান রহিম। সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম ফারাজী।
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়েও শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সংবাদপত্রের ক্লিপিংস প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দোয়া, প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
বেলা ১১টায় অদম্য বাংলা চত্বর থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হাদী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তীতে এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন।
পরে রোটার্যাক্ট ক্লাব অব খুলনা ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপাচার্য। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনবিষয়ক সংবাদপত্রের ক্লিপিংস নিয়ে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। চারুকলা স্কুলের আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিনটি গ্রুপে ৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে উপাচার্য বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় মন্দিরে প্রার্থনা সভা এবং বিকেলে অদম্য বাংলা চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সানা/আপ্র/৬/৮/২০২৬