দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ও রিমান্ডের পরও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদ বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মরিয়মের মৃত্যু এবং এর আগে ওঠা যৌন ব্ল্যাকমেলের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি জনপ্রতিনিধিদের জন্য অবিলম্বে বিশেষায়িত, পূর্ণাঙ্গ ও বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত দিকে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে গাজী নজরুল ও মাকছুদা ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সোমবার আদালত গাজী নজরুলকে চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত জুলাইয়ে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তখন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে গাজী নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। এরপর দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২২ জুলাই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না। তবে সংসদ ও অন্য সংসদ সদস্যদের জন্য মর্যাদাহানিকর এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্যক্তির সংসদ সদস্য পদ অব্যাহত থাকবে কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার পর বহিষ্কার, পদ ও প্রভাব ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলায় গ্রেফতার ও রিমান্ডের পরও গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকাকে অন্য সংসদ সদস্যরা কীভাবে দেখছেন, সে প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।
ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করবে আদালত। তবে সংসদ সদস্যের নৈতিকতা, ক্ষমতার ব্যবহার ও জনগণের আস্থার প্রশ্নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংসদের। তাই গাজী নজরুলের সংসদীয় অবস্থান নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা সংসদ ও নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
গাজী নজরুলের ঘটনাকে সংসদ সদস্যদের নৈতিক স্খলনের একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সংসদ সদস্যদের নৈতিক স্খলনের তথ্য বিভিন্ন গবেষণা, স্থানীয় পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আগেও ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত ও আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষায়িত, পূর্ণাঙ্গ ও বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
এদিকে গাজী নজরুলের দলীয় অবস্থান নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে; তবে নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো সংসদ সদস্যকে দল বহিষ্কার করলে তাঁর আসন শূন্য হবে কি না, সে বিষয়ে ওই অনুচ্ছেদে সরাসরি বিধান নেই।
সানা/আপ্র/২২/৯/২০২৬