গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

দীর্ঘ তিন বছর পর শ্রেণিকক্ষে ফিরলো গাজার শিশুরা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫১ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৮ এএম ২০২৬
দীর্ঘ তিন বছর পর শ্রেণিকক্ষে ফিরলো গাজার শিশুরা
ছবি

তাঁবুর তৈরি শ্রেণিকক্ষে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনের ক্লাসে অংশ নিচ্ছে ফিলিস্তিনের শিশুরা। গত শনিবার খান ইউনিসের ছবিটি রয়টার্স থেকে সংগৃহীত

প্রায় তিন বছর পর গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে গাজার লাখ লাখ শিশু। যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞে অধিকাংশ বিদ্যালয় বিধ্বস্ত হওয়ায় তাদের কেউ পড়ছে অস্থায়ী ভবনে, কেউ তাঁবুর নিচে। কোথাও আবার বালুময় খোলা মাঠে ত্রিপল, টিন ও কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে শ্রেণিকক্ষ। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে এখনো সন্তানদের জন্য ইউনিফর্ম, খাতা ও কলম কেনা কঠিন।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে গাজার ৯৮ শতাংশ বিদ্যালয় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার শিক্ষা কর্মকর্তাদের হিসাবে, প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে সশরীর শিক্ষা ও নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

খান ইউনিসের শিক্ষা পরিচালক ইব্রাহিম রমাদানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজায় রক্তক্ষয়ী সংঘাতে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৫৩২ জন শিক্ষকসহ ৭৭০ জনের বেশি শিক্ষা কর্মী নিহত হয়েছেন। এমন ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও বিদ্যালয়গুলো আবার চালু হওয়াকে গাজার মানুষের জন্য আশার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খান ইউনিসের শিক্ষার্থী মুয়ায়াদ আবু মুস্তফা জানায়, তিন বছর পর আবার স্কুলে ফিরতে পেরে সে আনন্দিত। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই তাদের সামনে উঠে এসেছে যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতা। বায়ু চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এমন তাঁবুর মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের। ভালো জুতা, খাতা ও কলমেরও সংকট রয়েছে।

মুস্তফা বলে, ‘এত কিছুর পরও আমরা শিখব। আমরা এমনকি তাঁবুর ভেতরে হলেও আমাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাব।’

যুদ্ধে বন্ধুদের হারানোর বেদনা নিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় সে। তার ভাষায়, ‘শেষবার স্কুলে গিয়েছিলাম তিন বছর আগে। এখন আমরা নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করছি। এটি আনন্দ, খুশি এবং সাফল্যের একটি বছর।’

তাঁবুতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করা ১৫ বছর বয়সী বাস্তুচ্যুত শিক্ষার্থী সমর আবু সালমিও নতুন করে শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে। অস্থায়ী স্কুলের আঙিনায় দাঁড়িয়ে সে জানায়, এত দিন মোবাইলের পর্দায় পড়াশোনা করতে হয়েছে। শিক্ষকদের সামনাসামনি দেখার সুযোগ ছিল না।

সমর বলে, ‘আমরা মোবাইলের পর্দায় পড়াশোনা করেছি এবং শিক্ষকদের দেখতে পাইনি। এখন আমরা আবার আমাদের স্বপ্নের পেছনে ছুটছি। এক তাঁবু থেকে আরেক তাঁবুতে হেঁটে গিয়ে হলেও আমরা পড়াশোনা করব।’

তবে তার পরিবারের পক্ষেও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনা এখন সম্ভব হচ্ছে না। সমর বলে, ‘যুদ্ধের আগে আমাদের সব কিছুই ছিল-খাতা, কলম, জামাকাপড় ও ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ, যা আমরা খুব কম খরচেই পেতাম।’

জটলা করা ঘর আর একটি ব্ল্যাকবোর্ড: গাজা উপত্যকাজুড়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম চালু করেছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন এলাকায় তাঁবু, ত্রিপল, টিন ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী বিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছে।

কিছু অস্থায়ী বিদ্যালয় তৈরি হয়েছে বালুময় খোলা মাঠে। কোনো কোনো শ্রেণিকক্ষে কয়েকটি জটলা করা তোশক ও একটি ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া আর কিছুই নেই। আবার এমন অনেক বিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলো এখনো বাস্তুচ্যুত শত শত পরিবারের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্য একটি স্কুলে যোগ দেওয়া ১৪ বছর বয়সী ইয়ামেন আবু সামরা যুদ্ধের আগের দিনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য তুলে ধরে বলে, ‘আগে আমরা সকালে আনন্দের সঙ্গে স্কুলে যেতাম। এখন স্কুলে আসার সময় আমরা বুলেট, রকেট ও বিমান হামলার আতঙ্কে থাকি।’

শিক্ষা কর্মকর্তাদের আশা, ইউনিসেফের সহায়তায় এ বছর অন্তত ৫ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অস্থায়ী বিদ্যালয়ে সশরীর উপস্থিত হয়ে ক্লাসে অংশ নেবে। যারা সশরীর ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না কিংবা যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তাদের জন্য অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থাও চালু থাকবে।

ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তাই গাজার শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার এই দৃশ্য শুধু নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর ঘটনা নয়; যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও শিক্ষা ও স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার এক প্রতীকী প্রত্যাবর্তন। সূত্র: রয়টার্স
সানা/ডিসি/আপ্র/২২/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সোনিয়ার ভোটার তালিকা মামলা ফের শুনানির নির্দেশ
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনিয়ার ভোটার তালিকা মামলা ফের শুনানির নির্দেশ

ভারতের কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর নাম ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার...

কলকাতায় হোটেলে কড়াকড়ি, বিপাকে বাংলাদেশি রোগীরা
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কলকাতায় হোটেলে কড়াকড়ি, বিপাকে বাংলাদেশি রোগীরা

কলকাতার হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ও বৈধ কাগজপত্রের বিষয়ে প্রশাসনের কড়াকড়িতে চরম বিপাকে...

হোয়াইট হাউসে চালু হলো ‘ট্রাম্প টিভি’
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হোয়াইট হাউসে চালু হলো ‘ট্রাম্প টিভি’

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ‘ট্রাম্প টিভি’ নামে নতুন একটি সরাসরি সম্প্রচার চ্যানেল চালু করেছে।সোমবার...

যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ বনাম রোবটের লড়াই, শেষ পর্যন্ত জয় কার
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ বনাম রোবটের লড়াই, শেষ পর্যন্ত জয় কার

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রানসিসকোতে এবার রিংয়ের ভেতর মুখোমুখি হলো মানুষ ও ছয় ফুট লম্বা এক হিউম্যানয়েড রো...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই