গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

মেনু

পাহাড়ি বুনোফল রসকো আপেলের চেয়েও দামি

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১১:৪২ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৩:০১ এএম ২০২৬
পাহাড়ি বুনোফল রসকো আপেলের চেয়েও দামি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রসকো বা রক্তফল পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি সুস্বাদু ও জনপ্রিয় বুনোফল। মার্চের মাঝামাঝি থেকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে লাল রঙের টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল। কিন্তু বিক্রেতারা দাম হাকছেন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। যা বিদেশি ফল আপেলের চেয়ে দামি। আমদানিনির্ভর ১ কেজি আপেলের দাম যেখানে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা; সেখানে প্রাকৃতিকভাবে পাহাড়ি বনে উৎপাদিত বুনোফল রসকো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রসকো পাহাড়ি বনে লতানো গাছে থোকা থোকা ধরে। যা পাকলে টকটকে লাল বা সিঁদুরে রঙের হয়। চাকমা ভাষায় ‘রসকো’, ত্রিপুরা ভাষায় ‘তাইথাক’ এবং মারমাদের কাছে ‘লস্কর’ নামে পরিচিত ফলটির স্বাদ টক-মিষ্টি। ফলের ভেতরের গাঢ় লাল রসের জন্য একে ‘রক্তফল’ বা ‘রক্তগোটা’ও বলা হয়।

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের গহীন বনে বা পাহাড়ের ঢালে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় বুনোফল রসকো। এটি মূলত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়। পাকা ফল সরাসরি খাওয়া যায়। এ ছাড়া অনেকে ভর্তা বা জ্যাম বানিয়েও খান।

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ফলটি নিয়ে এখনো কোনো গবেষণা করা হয়নি। পার্বত্য তিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফলটি দেখা যায়। বাজারেও ভালো চাহিদা আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আবহাওয়া রসকোর চাষের উপযোগী। তাই এটি বাণিজ্যিক চাষে কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন।’

বুধবার ও শনিবার সাপ্তাহিক হাটের দিন ছাড়াও রাঙ্গামাটি শহরের বনরুপা, রাজবাড়ী, কল্যাণপুর, কলেজগেট ও তবলছড়ি বাজারে এ ফল বিক্রি করতে দেখা যায়। বিক্রেতারা জানান, চাহিদা প্রচুর এবং আকারভেদে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

বনরুপা বাজারের বিক্রেতা সুবল চাকমা বলেন, ‘ফলের ভেতরটা রক্তের মতো লাল রসে ভরা থাকে। এগুলো খেলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়। তাই অনেকেই আগ্রহ নিয়ে এ ফল খান। পাহাড়ের বনে-জঙ্গলে আগে প্রচুর হতো। তখন তেমন দাম ছিল না। এখন গাছ খুব বেশি দেখা যায় না। দামও অনেক বেশি। প্রথমদিকে আমি ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। এখন ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি।’

পাহাড়ি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে এ ফল চাষের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। কারণ এর চাহিদা পাহাড় ছেড়ে ঢাকা, চট্টগ্রামের বাইরেও সমতলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অনেকেই বসত বাড়ির পাশে এ ফলের বীজ বপন করে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন।

নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের কৃষ্ণমাছড়া এলাকার সুব্রত বিকাশ চাকমা বাড়ির পাশে এ ফলের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই ফলের লতাটির বয়স ১৮ বছরের বেশি হবে। বীজ থেকে লতাটি লাগানোর ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে ফল এসেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকার ওপরে ফল বিক্রি করেছি।’

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়ি ইউনিয়নের মৌনতলা এলাকার লক্ষ্মী কুমার চাকমার একটি রসকো লতা আছে। ১৫ বছর ধরে তার লতাটি ফলন দিচ্ছে। এ বছর তিনি ৭০ হাজার টাকার রসকো বিক্রির আশা করছেন। এ লতা চাষ বাড়ানোর জন্য তিনি আরো একাধিক রসকো লতা রোপণ করেছেন।

প্রাকৃতিক বনের বড় গাছে রসকো লতা বেড়ে ওঠে বলে জানিয়ে লক্ষ্মী কুমার বলেন, ‘ফলটি চাষ করতে হলে বড় গাছ লাগবে। যে গাছের স্থায়ীত্ব অনেক বছর হয়। সাধারণত আম গাছে এই লতা ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। বড় গাছের কোনো ক্ষতি না করে বছরের পর বছর বেঁচে থাকে লতাটি।’

কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পুষ্টিগুণ হিসেবে এই ফলে ফাইবার ছাড়াও ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-৬ আছে। পাহাড়িরা এই ফলের লতা জন্ডিস ও চুলকানির ওষুধের কাজে ব্যবহার করেন। এ ছাড়া ফলটি খেলে রক্তশূন্যতা দূর হয়।’
 
এসি/আপ্র/০৪/০৪/২০২৬

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিদ্যালয়ের টিফিনের রুটিতে পাওয়া গেলো ব্লেড
২৩ জুলাই ২০২৬

বিদ্যালয়ের টিফিনের রুটিতে পাওয়া গেলো ব্লেড

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সরকারি টিফিনের রুটির মধ্যে একটি ধারালো ব্লেড পাওয়া গেছে। ব...

খুলনায় এবার হাঁস খুঁজতে গিয়ে মিলল ইজিবাইক চালকের রক্তাক্ত মরদেহ
২৩ জুলাই ২০২৬

খুলনায় এবার হাঁস খুঁজতে গিয়ে মিলল ইজিবাইক চালকের রক্তাক্ত মরদেহ

খুলনায় আবারও মিলল এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ। মহানগরীর পার্শ্ববর্তী বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের তে...

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ, এনসিপির শীর্ষ নেতা গ্রেফতার
২৩ জুলাই ২০২৬

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ, এনসিপির শীর্ষ নেতা গ্রেফতার

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে দায়ের করা ধর্ষণ...

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এমপি আবু সুফিয়ান
২৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এমপি আবু সুফিয়ান

একেএম ফজলুল হক: চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিস...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

জামায়াত এমপির বিয়ে নিয়ে বিতর্ক, বায়োডাটায় নতুন প্রশ্ন

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে তাঁর দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পর স্বাক্ষর করা একটি বায়োডাটায় ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন যে, এমপির দাবি ন্যায়সঙ্গত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে