সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারীর অভিযোগ, ৫৪ জন জনবল নিয়োগের কাজ একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে হাসপাতালের এক হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। কোনো প্রকার লটারি ছাড়াই বিতর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ডিজি অফিসে রেজুলেশন পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল ও দরপত্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামেক হাসপাতালে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের জন্য প্রথম দফায় গত বছরের ১ নভেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস, পিমা অ্যাসোসিয়েট ও টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড—এই চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তখন অনিয়মের অভিযোগ ও নথিপত্রে ত্রুটি থাকায় টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনালের আবেদন বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দরপত্র দাখিলের শেষ দিনে আগের সেই চারটি প্রতিষ্ঠানই অংশ নেয় এবং সবাই একই দর দাখিল করে। নিয়ম অনুযায়ী একাধিক প্রতিষ্ঠানের দর একই হলে লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলাম মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল–এর নাম পুনরায় রেজুলেশন করে অনুমোদনের জন্য অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন।
দরপত্রে অংশ নেওয়া আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী অভিযোগ করেন, ‘প্রথম দফায় যে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অভিযোগে বাতিল হলো, তাকেই আবার কাজ পাইয়ে দিতে ৫৪ জন প্রার্থীর বিপরীতে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মোট ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সংশ্লিষ্ট অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মোস্তাজুল ইসলামের পরিবার খুলনায় টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিকের বাড়িতে ভাড়া থাকে। সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরেই এই অনৈতিক লেনদেন ও কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সাতক্ষীরার সচেতন মহল মনে করছেন, আউটসোর্সিং নিয়োগে এমন অস্বচ্ছতা হাসপাতালের সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। সরকারি বিধি মোতাবেক লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সানা/আপ্র/১৫/৩/২০২৬