গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মেনু

দাপটেই চলছেন ডিপিডিসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:০৯ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৫০ এএম ২০২৬
দাপটেই চলছেন ডিপিডিসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা
ছবি

আজকের প্রত্যাশা

রাষ্ট্রীয় অর্থের ওপর যেন রাক্ষুসে থাবা বসিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত ‘জি টু জি’ (সরকার থেকে সরকার) মেগা প্রকল্পে নানা কায়দায় লুটপাট করা হয়েছে শত শত কোটি টাকা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট তদন্তের ভিত্তিতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিলেও ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ তা যেন হিমাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা এখনো দাপটের সঙ্গে পদ আঁকড়ে ধরে আছেন; যা সংশ্লিষ্ট মহলে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। তবে ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় জনমনে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠনকারীদের বিচারের ব্যাপারে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

জার্মানির বদলে চীনা পণ্য: বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির চিত্র। প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, বিতরন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের জন্য ১৪০ সেট ১৩২ কেভি ক্যাবল এক্সেসরিজ (ক্রস বন্ডিং জয়েন্ট) আমদানির কথা ছিল জার্মানি থেকে। শর্ত ছিল, মালামালগুলো পোল্যান্ডের বন্দর থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। কিন্তু প্রকল্পের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিবিইএ কোম্পানি লিমিটেডের এক অশুভ আঁতাতের মাধ্যমে জার্মানির পরিবর্তে চীন থেকে নিম্নমানের মালামাল আমদানি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্যাবল এক্সেসরিজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নথিপত্র জালিয়াতি করে তা জায়েজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। জার্মানি এবং চীনের পণ্যের মূল্যের বড় ধরনের পার্থক্যের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১০০ কোটি টাকা পকেটস্থ করেছে একটি বিশেষ চক্র।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে সরাসরি (জিটুজি) চুক্তির ভিত্তিতে বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। ২০২৫ সালের মার্চে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০২৩ সালেই প্রকল্পের মালামাল ক্রয়ে বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। মূল অভিযোগ ওঠে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানসহ ডজনখানেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২২তম, ৪৩তম এবং ৪৫তম শিপমেন্টের মাধ্যমে এই মালামালগুলো আনা হয়। এর মধ্যে ২২তম ও ৪৩তম শিপমেন্টের ৭১ সেট ক্যাবল এক্সেসরিজ কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই গ্রহণ করে বিল পরিশোধ করে দেয় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ৪৫তম শিপমেন্টের ৬৯ সেট নিয়ে। তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয়েছে যে, এই ৬৯ সেট মালামাল ইউরোপের পরিবর্তে চীনে প্যাকিং করা হয়েছে এবং চীনের সাংহাই বন্দর থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। জার্মানিতে উৎপাদিত পণ্যের চেয়ে চীনে উৎপাদিত পণ্যের বাজারমূল্য ২০ থেকে ৩০ ভাগ কম। এই মূল্য পার্থক্যের সুযোগ নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে মিলে কর্মকর্তারা প্রায় ১০০ কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন ও মন্ত্রণালয়ের ‘অসহায়’ নির্দেশনা: দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সবুর হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির দীর্ঘ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার এবং নথিপত্র পর্যালোচনার পর ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ১১০ পাতার একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের থেকে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি এক চিঠিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং গৃহীত পদক্ষেপ মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশনার ছয় মাস পার হতে চললেও ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। অভিযোগ রয়েছে, জিটুজি প্রকল্পের প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজ চক্র ডিপিডিসির তৎকালীন শীর্ষ পর্যায়কে ‘ম্যানেজ’ করে তদন্ত প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে। সূত্রের দাবি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ থাকার পরও তাদের বরখাস্ত না করা সংস্থার জন্য চরম লজ্জাজনক।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ও ডিপিডিসির তৎকালীন ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নূর আহমদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উত্তেজিত হয়ে বলেন, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা কিংবা কোনো তদন্ত প্রতিবেদনে কী এসেছে, কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি- তা কি আপনাদের (সাংবাদিক) দেখার কথা! আর আমি তো তখন দায়িত্বেই ছিলাম না। আমি এসেছি দু’দিন হলো! অথচ নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ১১০ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন ও এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয় ২০২৫ সালে ৪ সেপ্টেম্বর। ওই সময়কালেও নূর আহমদ-ই ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন।

বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে ডিপিডিসির ভেতরেই একাধিক কমিটি গঠন করা হয়। শুরুতে প্রধান প্রকৌশলী (উন্নয়ন) তারিকুল হককে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তপন কুমার মন্ডল, নির্বাহী প্রকৌশলী সাজাদুল হক ফারুকী, আশিকুর রহমান এবং অর্থ বিভাগের জিএম এ বি এম ফিরোজ সহ আরো দুই জন। এই ৭ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি সাফ জানিয়ে দেয় যে, ৪৫তম শিপমেন্টের মালামাল গ্রহণ করা সম্ভব নয়। কারণ এতে কারিগরি ঝুঁকি ও আর্থিক ক্ষতি উভয়ই বিদ্যমান। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মালামালগুলো গ্রহনে জটিলতা দেখা দিলে সিন্ডিকেটের জোড়ালো তদবিরে দুর্নীতির এই বিশাল পাহাড় টপকাতে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সত্যকে আড়াল করতে অদ্ভুত এক প্রস্তাব দেন।

নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খান বলেন, ঠিকাদারের কাছ থেকে ৫ বছরের অতিরিক্ত ‘রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি’ নিয়ে মালামালগুলো গ্রহণ করা হোক। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবেদনে এই প্রস্তাবকে ‘চাতুর্যপূর্ণ’ এবং ‘দুর্নীতি জায়েজ করার পথ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ারেন্টি বাড়িয়ে দিলেই চীনের নিম্নমানের পণ্য জার্মানির মানের সমান হয়ে যায় না।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম টিটু বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত পাশ কাটিয়ে মালামাল গ্রহণের সপক্ষে নোট উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী মুর্তজা কামরুল আলম ও এইচআর দপ্তরের ডিজিএম কামরুন নাহার খানম এই অনৈতিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন দেন, যা ডিপিডিসির ৩৫৫তম বোর্ড সভায় অনুমোদন পায়। এই কমিটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতকে উপেক্ষা করে এবং ইমপোর্ট পারমিটে সাংহাই বন্দরের নাম থাকার পরও বিতর্কিত মালামাল গ্রহণের সুপারিশ করে। এমনকি মালামালের মান নিশ্চিত না করেই অতিরিক্ত ৫ বছরের ‘রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি’র একটি হাস্যকর প্রস্তাব দিয়ে জালিয়াতিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, ওয়ারেন্টি বাড়িয়ে দিলেই চীনের মালামাল কখনো জার্মানির মানের সমান হতে পারে না।

জড়িত যাদের নাম আলোচনায়: তদন্ত প্রতিবেদন এবং ডিপিডিসি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য মতে, এই লুটপাটের সঙ্গে তিন স্তরের প্রায় ১২-১৩ জন কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত। তালিকায় রয়েছেন ১. ডিপিডিসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এম.ডি) বিকাশ দেওয়ান, ২. জালিয়াতি জায়েজ করার প্রধান কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খান, ৩. জিটুজি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমান, ৪. সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবদুল্লাহ নোমান, ৫. বর্তমান প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেছা, ৬. বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন পাশ কাটিয়ে মালামাল গ্রহণের জন্য বিতর্কিত নোট উপস্থাপনে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম টিটু এবং ৭। এইচআর দপ্তরের ডিজিএম কামরুন নাহার খানম। এছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মশিয়ার রহমান জোয়ার্দ্দার, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবুল হাদী, মো. ওয়াজেদ, আবির চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী মুর্তজা কামরুল আলমের নামও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি গত কয়েক বছরে জিটুজি প্রকল্পের কেনাকাটা থেকে কয়েকশ’ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।

সাধারণ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের ক্ষোভ: ডিপিডিসির সাধারণ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের মধ্যে এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রকৌশলী জানান, ‘মাঠ পর্যায়ে সাধারণ গ্রাহকসেবায় সামান্য এদিক-সেদিক হলে আমাদের বিরুদ্ধে শোকজ আর শাস্তির খড়গ নেমে আসে। অথচ যারা শত শত কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করছে, তারা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরও বহাল তবিয়তে এসি রুমে বসে ফাইল সই করছে। এটা প্রশাসনের চরম দ্বিমুখী আচরণ।’

ডিপিডিসির সাবেক একজন নির্বাহী পরিচালক জানান, শুধু ক্যাবল এক্সেসরিজ নয়, এই জিটুজি প্রকল্পের কেনাকাটায় আরও অসংখ্য দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। কোটি কোটি টাকার নিম্নমানের ক্যাবল কেনা হয়েছে যা এখনো তদন্তের আওতায় আসেনি।

কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানোর চেষ্টা: এই দুর্নীতির পাহাড় নিয়ে যখন ডিপিডিসির বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তখন পাওয়া যায় বিভ্রান্তিকর তথ্য। ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ হায়দার আলী জানান, বিষয়টি বোর্ড সভায় আলোচনা হয়েছে কিন্তু সিদ্ধান্ত আসেনি। অথচ বোর্ড সভাপতি ও সাবেক সচিব মো. হামিদুর রহমান খান বিষয়টি জানেনই না বলে দাবি করেন।

পরিচালনা পর্ষদে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে ডিপিডিসির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সাবেক সচিব মো. হামিদুর রহমান খান বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি আমার জানা নেই। আর এটা আমার দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে না। এগুলো দেখবেন সংস্থার এম.ডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)।

দুদকের হস্তক্ষেপ ও আগামীর প্রত্যাশা: ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তদন্ত প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নথিপত্র পর্যালোচনা শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের তলব করা হতে পারে।

দেশের বিদ্যুৎ খাতের এই বিশাল লুটপাটের বিচার হওয়া এখন সময়ের দাবি। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই জিটুজি প্রকল্পটির ঋণের বোঝা বইতে হবে দেশের জনগণকে। তাই জার্মানির বদলে চীনের পণ্য দিয়ে যে ডিজিটাল প্রতারণা করা হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতে এরকম মেগা লুটপাট আরও বাড়বে।

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে মানুষ আশা করে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতকারীরা রেহাই পাবে না। ডিপিডিসির এই ১০০ কোটি টাকার ‘কমিশন বাণিজ্য’ কেবল একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। পুরো জিটুজি প্রকল্পের প্রতিটি কেনাকাটা এবং শিপমেন্ট পুনরায় অডিট করা হলে দুর্নীতির আরও ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিপিডিসি কি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনে ব্যবস্থা নেবে, নাকি অপরাধীদের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে যাবে- ওই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় দেশবাসী।

 আপ্র/কেএমএএ/১১.০৩.২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ
১০ মার্চ ২০২৬

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া ফারহা...

ঢাকায় বিপুল পরিমাণ মাথার খুলি, হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেফতার ৪
১০ মার্চ ২০২৬

ঢাকায় বিপুল পরিমাণ মাথার খুলি, হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল পরিমাণ হাড়-কঙ্কাল উদ্ধারসহ চোর চক্রের চার সদ...

যাত্রাবাড়ীতে রগ কেটে যুবককে হত্যা
০৯ মার্চ ২০২৬

যাত্রাবাড়ীতে রগ কেটে যুবককে হত্যা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার আড়তে এক যুবককে পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। মেহেদী হাসান অপু নামের...

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান
০৯ মার্চ ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান

মাঠে প্রায় চার হাজার সদস্য

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই