বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ সাধারণত গুরুত্বহীন বলেই বিবেচিত হয়। তবে মায়ামি গার্ডেন্সে শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই উপহার দিল, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বহুদিন। ১০ গোলের রেকর্ডগড়া এই ম্যাচে বুকায়ো সাকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৬-৪ গোলের জয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
১৯৬৬ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য। এর আগে ১৯৯০ ও ২০১৮ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পরাজিত হয়েছিল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে টমাস টুখেলের দল। তৃতীয় মিনিটেই প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ডেক্লান রাইস। এটি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। ১৮তম মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কন্সা।
এরপর ইংল্যান্ডের আক্রমণের ঝড় আরও তীব্র হয়। ৩৭তম মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের প্রচেষ্টার পর ফিরতি বলে গোল করেন বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এবেরেচি এজের নিখুঁত পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্সকে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে দেন এই আর্সেনাল তারকা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনোই প্রথমার্ধে চার গোলে পিছিয়ে পড়েনি ফ্রান্স। একই সঙ্গে ৫৮ বছর পর কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধেই চার গোল হজমের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো তাদের।
তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান কিলিয়ান এমবাপে। ছয় মিনিট পর এমবাপের পাসে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। ৬৬তম মিনিটে আবারও ওলিসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপে।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন ফরাসি অধিনায়ক। তার বিশ্বকাপে মোট গোল দাঁড়ায় ২২টি, যা লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়। চলতি আসরে ১০ গোল নিয়ে গোলদাতার তালিকাতেও শীর্ষে উঠে যান এমবাপে।
এদিন আরেকটি ইতিহাস গড়েন মাইকেল ওলিসে। এমবাপের দ্বিতীয় গোলে সহায়তা করে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক সাতটি অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। ভেঙে দেন ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের করা ছয় অ্যাসিস্টের কীর্তি।
ফ্রান্স যখন ৪-৩ ব্যবধানে ফিরে এসে সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে, তখন ৮৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি; এর আগে ১৯৫৮ সালে এই কীর্তি গড়েছিলেন পেলে।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে উসমান দেম্বেলে গোল করে ব্যবধান আবার এক গোলে নামিয়ে আনলেও শেষ নাটকীয়তার সুযোগ দেয়নি ইংল্যান্ড। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে একক নৈপুণ্যে দুর্দান্ত গোল করে ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন জুড বেলিংহ্যাম।
সাকার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের হয়ে একটি করে গোল করেন ডেক্লান রাইস, এজরি কন্সা ও জুড বেলিংহ্যাম। ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে, আর একটি করে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বেলে।
১০ গোলের এই লড়াই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোল হওয়া ম্যাচগুলোর অন্যতম। তবে রেকর্ড গড়েও হাসতে পারেনি ফ্রান্স। বিশ্বকাপজয়ী কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়ী ম্যাচটি শেষ হলো পরাজয়ের বেদনায়। অন্যদিকে স্মরণীয় জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল ইংল্যান্ড।
সানা/আপ্র/১৯/৭/২০২৬